রিপোর্টার্স২৪ ডেক্স: ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’, যা বাংলাদেশ গেজেটে অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ পেয়ে ইনস্টিটিউশনাল স্তরে কার্যকর করা হয়েছে। নীতিমালায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মসজিদের নামে রাস্তাঘাট বা যানবাহনে চাঁদা আদায়/উত্তোলন করা যাবে না এবং অবৈধ স্থানে নির্মিত মসজিদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উচ্ছেদ করা হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি হবে কেবল শরিয়াহ সম্মত ও ওয়াকফ/দান/ক্রয়কৃত বা আইন অনুযায়ী বরাদ্দকৃত জমি; অন্য যে কোনও সম্পত্তিতে মসজিদ নির্মাণ অবৈধ গণ্য হবে এবং এরূপ নির্মাণের সঙ্গে সংযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে এমন অবৈধ স্থানে নির্মিত মসজিদ উচ্ছেদের ব্যাপারে সরকারের যথাযথ প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিমালায় নারীদের জন্য সালাতের পৃথক ব্যবস্থা, মসজিদের কর্মরতদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বন্ধ, অরাজনৈতিক দ্বীনি দাওয়াত ও ওয়াজের জন্য পৃথক স্থান নিশ্চিতকরণসহ মসজিদের ভেতরে নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মসজিদ পরিচালনার জন্য স্থানীয় মুসল্লিদের দ্বারা নির্বাচিত অথবা মনোনীত একাধিক সদস্যবিশিষ্ট ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করার বিধান রাখা হয়েছে; কমিটির মেয়াদ তিন বছর, যুক্তিযুক্ত কারণে সর্বোচ্চ এক বছর বাড়ানো যাবে।
ইমাম-খতিব ও অন্যান্য কর্মীর বেতন কাঠামোও নীতিমালায় নির্ধারণ করা হয়েছে। সিনিয়র পেশ ইমাম জাতীয় বেতন স্কেল (২০১৫) অনুসারে পঞ্চম গ্রেডে, পেশ ইমাম ষষ্ঠ গ্রেডে, ইমাম নবম গ্রেডে, প্রধান মুয়াজ্জিন দশম গ্রেডে এবং মুয়াজ্জিন এগারতম গ্রেডে বেতন পাবেন; প্রধান খাদিম ১৫তম এবং অন্যান্য খাদিম নির্ধারিত গ্রেডে বেতন পাবেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী থাকাবস্থায় ভাতা নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম বিভাগ সূত্রে জানানো হয়েছে, নীতিমালাটি মসজিদের ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে প্রণীত, ফলে মসজিদ সংশ্লিষ্ট আর্থ-সামাজিক অনিয়ম প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, গৃহীত বিধানগুলো আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে যাতে মসজিদগুলো ন্যায্য ও জনহিতকর ভূমিকা বজায় রাখতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি