ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :
প্রাচীন প্রবাদ ‘বিপদে সুযোগ’ করাচির মালির জেলে এক বাস্তব রূপ লাভ করলো। সোমবার রাতে পূর্ব করাচিতে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে ২০০ জনেরও বেশি বন্দী কারাগার থেকে পালিয়ে যায়।
ভূমিকম্পের প্রভাবে যখন মাটি কাঁপছিল, তখন শহরের মালির জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ে। বহু সংখ্যক বন্দী এই অপ্রত্যাশিত সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। এই কারাগারে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত বহু বন্দী রয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
জিও টিভির এক প্রতিবেদনে জেল সুপারিনটেনডেন্ট আরশাদ শাহ জানান, ভূমিকম্পের কারণে কর্তৃপক্ষ যখন বন্দীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিল, সেই সুযোগে ‘অন্তত ২১৬ জন বন্দী পালিয়ে গেছে’। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশৃঙ্খলার মধ্যে একজন বন্দী নিহত হয়েছে এবং কিছু কারারক্ষীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
রোবরার থেকে করাচিতে ১৬টি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটির কেন্দ্রস্থল ছিল মালিরের কাছে। সোমবার গভীর রাতে, মালিরের উত্তর-পূর্বে ৪০ কিলোমিটার গভীরে পরপর দুটি মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ২.৬ এবং ২.৮।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিওতে মালির কারাগারের কাছাকাছি এলাকা থেকে ভারী গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ডন পত্রিকার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, অন্যান্য ফুটেজে বন্দীদের নিকটবর্তী রাস্তা দিয়ে পালাতে দেখা গেছে।
জেল সুপারিনটেনডেন্ট শাহ জানান, ভূমিকম্পের সময় ৪ ও ৫ নম্বর সার্কেলের বন্দীদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যারাক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। জিও টিভিকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘সে সময় ৬০০ জনেরও বেশি বন্দী তাদের কক্ষের বাইরে ছিল। বিশৃঙ্খলার মধ্যে ২১৬ জন পালাতে সক্ষম হয়।’ তিনি আরও জানান, এখনও ১৩৫ জনের বেশি বন্দী পলাতক রয়েছে এবং তাদের সন্ধানের কাজ চলছে।
প্রাথমিকভাবে, পুলিশ করাচির ডন সংবাদপত্রকে জানিয়েছিল যে বন্দীরা কারাগারের বাইরের প্রাচীর ভেঙে পালিয়েছে, যা একাধিক মৃদু ভূকম্পনের কারণে দুর্বল হয়ে গিয়েছিল।
তবে, জিও টিভির এক প্রতিবেদনে সিন্ধ প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়া-উল-হাসান লঞ্জর জানিয়েছেন, ৭০০ থেকে ১০০০ বন্দী যখন সরিয়ে নেওয়ার সময় প্রধান ফটকের কাছে জড়ো হয়েছিল, তখন পালানোর ঘটনাটি ঘটে। বিশৃঙ্খলার মধ্যে প্রায় ১০০ জন বন্দী জোর করে গেট খুলে পালাতে সক্ষম হয়।
লঞ্জর এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর জেল ভেঙে পালানোর ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি সম্ভাব্য কর্মীদের অবহেলার ইঙ্গিতও দিয়েছেন এবং জানান যে পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
সিন্ধ প্রদেশের ইন্সপেক্টর জেনারেল গোলাম নবী মেমন কারাগার পরিদর্শনের সময় গণমাধ্যমকে জানান, মালির জেলে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত বহু বন্দী রয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
জিও টিভির প্রতিবেদন অনুসারে, উদ্ধারকারী ও কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে বিশৃঙ্খলার সময় ফ্রন্টিয়ার কর্পসের তিনজন কর্মী ও একজন কারারক্ষী আহত হয়েছেন এবং একজন বন্দী নিহত হয়েছে।
পুনরায় আটক হওয়া বন্দীদের মধ্যে সিরাজ সাংবাদিকদের জানান, ভূমিকম্পের কম্পন কারাগারের অভ্যন্তরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। জিও টিভিকে উদ্ধৃত করে সিরাজ বলেন, ‘যখন ভূমিকম্প হয়, তখন সবাই গেট ভাঙতে শুরু করে। অনেকেই পালিয়ে যায়। আমি একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলাম এবং পালানোর পর আত্মগোপনে ছিলাম।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব