স্টাফ রিপোর্টার: একনেক সভার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পুনর্বাসনের কোনো নিশ্চিত ব্যবস্থা ছাড়াই উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন আজিমপুর সরকারি কলোনির (জোন-সি) ৪১৮টি সরকারি চাকরিজীবী পরিবার। হঠাৎ উচ্ছেদের সিদ্ধান্তে সন্তানদের পড়াশোনা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় একনেকের অনুমোদিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা ছাড়াই ভবন ভাঙা ও নতুন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আজিমপুর জোন-সি এলাকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে এসব উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সি-জোনের বাসিন্দা শামসুন্নাহার বলেন, তারা সবাই রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মরত—কেউ সচিবালয়ে, কেউ আদালতে, কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। বছরের পর বছর আজিমপুরে বসবাস করে এখানেই তারা পরিবার গড়ে তুলেছেন এবং সন্তানদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, জোন-সি এলাকার বাসিন্দাদের সন্তানরা রাজধানীর নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, উদয়ন স্কুল, বুয়েট স্কুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাসা ভেঙে দিলে তাদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে একের পর এক দরপত্র আহ্বান করা হলেও আজ পর্যন্ত ৪১৮টি পরিবারের কাউকেই বিকল্প বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অথচ ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল পরিকল্পনা কমিশনের সভায় একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জোন-সি প্রকল্প শুরুর আগে বর্তমান বাসিন্দাদের জোন-বি এলাকায় পুনর্বাসনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে এখন মৌখিকভাবে নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জ এলাকায় স্থানান্তরের কথা বলা হচ্ছে, যা পরিবারগুলোর জন্য বাস্তবসম্মত নয় এবং চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া এক অভিভাবক বলেন, আমরা কেউ অবৈধ দখলদার নই। সরকারি বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রের চাকরি করে আজিমপুর কলোনিতে বসবাস করছি। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ হলে আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন ও লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন। পাশাপাশি মানবিক ও বাস্তবসম্মত সমাধানের লক্ষ্যে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন—একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোন-বি এলাকায় পুনর্বাসন, জোন-এ’র নবনির্মিত ভবনে অস্থায়ীভাবে স্থানান্তর অথবা আজিমপুরের অন্যান্য প্রকল্পের মতো দুই ধাপে জোন-সি প্রকল্প বাস্তবায়ন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামসুন্নাহার বলেন, মাসখানেক আগে ৩১টি ভবন ভেঙে ফেলার নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। তবে ভাঙার আগে বাসিন্দারা কোথায় যাবেন—সে বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের আগে অন্তত বাসিন্দাদের মাথা গোঁজার একটি বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী এলওটি-৩৯ নম্বর ভবনের মুশফিকুর রহমান, শহিদুল ইসলাম ও নাজমুল ইসলাম, ৩২ নম্বর ভবনের সাইফুল ইসলাম, পুরাতন ৪০ নম্বর ভবনের মুক্তাদির হোসেন, ২৪ এলওটির নাজমুন নাহার, ২৫ নম্বর এলওটির রীমি আক্তারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি