স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের পোশাক খাতের বিপুল বাজার দখলের লক্ষ্য নিয়ে ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় পোশাকপণ্যসহ চামড়া, সামুদ্রিক পণ্য, হস্তশিল্প ও গয়নার মতো পণ্যের ওপর প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক শূন্যে নেমে যাবে, যা বাংলাদেশসহ অন্যান্য রপ্তানিকারকদের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়াবে।
প্রায় দুই দশক ধরে চলা আলোচনার পর মঙ্গলবার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। অনুমোদনের পর এটি ২০২৭ সালে কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ১৯৭৫ সাল থেকে এলডিসি বাণিজ্য সুবিধার মাধ্যমে ইউরোপে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পেয়ে এসেছে এবং বর্তমানে চীনের পরই দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক। ডেনিম, ট্রাউজার, টি-শার্টের মতো পণ্যে বাংলাদেশ চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৫০ শতাংশের বেশি (প্রায় ১,৯৭১ কোটি ডলার) ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশে গেছে।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানিয়েছেন, চুক্তির ফলে ভারত তার টেক্সটাইল রপ্তানি ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩০–৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশের মতো দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে ভারত তাদের বাজারে প্রবেশ করবে এবং প্রতিযোগিতা বাড়াবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরোপে ভারতীয় পোশাকের প্রবেশ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র হবে, দাম ও মানের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি চাপের মুখে পড়তে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি