সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাকবাশিয়া এলাকায় যৌথবাহিনীর টহলের সময় তিন মোটরসাইকেল আরোহীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইসমাইল হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অসুস্থ মায়ের ওষুধ কিনতে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলে কাকবাশিয়া বাজারে যান ইসমাইল হোসেনসহ আরও দুজন। ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরার পথে কাকবাশিয়া বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল দলের সামনে পড়লে তিনজনকেই মারধর করা হয়।
এ সময় ঘাড়ে আঘাত পেয়ে ইসমাইল হোসেন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত স্থানীয় চিকিৎসক ডা. পলাশের কাছে নেওয়া হলে তিনি ইসমাইলকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইসমাইল হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন এবং রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস জানান, ইসমাইলের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীকে শান্ত করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরার আশাশুনি সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন সাজিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিহত ইসমাইল হোসেনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ময়নাতদন্ত বোর্ডে থাকা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. নাসির উদ্দীন জানান, নিহতের মরদেহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে ইসমাইল হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় অংশ নেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক ডা. শহিদুল আলম এবং জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা