| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আন্দোলনের চতুর্থ দিন: কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৩, ২০২৬ ইং | ১৩:৩৯:১৭:অপরাহ্ন  |  ৭১৬৭৯৫ বার পঠিত
আন্দোলনের চতুর্থ দিন: কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

সিনিয়র রিপোর্টার: নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা অবরোধের পর মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

কর্মবিরতির ফলে জেটি ও বহিনোঙরে পণ্য নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে মোট ৯৮টি জাহাজ। এর মধ্যে চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুরসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বহনকারী জাহাজ রয়েছে অন্তত ৩২টি। বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমদানি-রপ্তানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকে এই কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। আন্দোলনের মধ্যেই গতকাল সোমবার হঠাৎ করে ১৫ জন আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। আন্দোলন দমাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে এসব বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। সোমবার জারি করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বদলিকৃতদের মধ্যে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপিপন্থি দুই শ্রমিক নেতাও রয়েছেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়েবসাইটে সোমবারের পোর্ট পারফরম্যান্স আপডেট করা হয়নি। তবে আগের দিনের তথ্যে দেখা যায়, বন্দরের সীমায় অপেক্ষমাণ ৯৮টি জাহাজের মধ্যে ১২টি কনটেইনারবাহী, ২৯টি জেনারেল কার্গো এবং ২২টি গম ও চালসহ খাদ্যসামগ্রী বহনকারী। এ ছাড়া চিনির কাঁচামাল বহনকারী পাঁচটি, লবণবাহী দুটি ও তেলবাহী নয়টি জাহাজ রয়েছে। বাকি জাহাজগুলোতে সার, সিমেন্ট ক্লিঙ্কারসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, রমজানের আগে এমন কর্মবিরতি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা দ্রুত এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন। অন্যথায় প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

এদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা আদেশে দাপ্তরিক প্রয়োজনে বদলিপূর্বক সংযুক্তির কথা জানানো হয়। এর আওতায় আটজনকে পায়রা বন্দরে এবং সাতজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, বন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির ও ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকনকে ঢাকার পানগাঁও টার্মিনালে সংযুক্তি দেওয়ার এক দিনের মধ্যেই যথাক্রমে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। তারা দুজনই ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর সমন্বয়ক এবং চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের শীর্ষ নেতা।

একই আদেশে পানগাঁও টার্মিনালে সংযুক্ত চট্টগ্রাম বন্দরের এসএস খালাসি মো. ফরিদুর রহমান, উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফি উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলামকে পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া মোংলা বন্দরে বদলি হওয়া অন্যরা হলেন—উচ্চমান সহকারী শাকিল রায়হান, উচ্চ বহিঃসহকারী আবদুল্লাহ আল মামুন, স্টেনোটাইপিস্ট খন্দকার মাসুদুজ্জামান, ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিঝি ও আমিনুর রসুল বুলবুল এবং মেসন শামসু মিয়া। পায়রা বন্দরে বদলি হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন স্টেনোটাইপিস্ট জহিরুল ইসলাম, এসএস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, ইসিএম ড্রাইভার লিয়াকত আলী ও খালাসি মো. রাব্বানী।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, আন্দোলন দমাতে সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে শ্রমিক নেতাদের বদলি ও হয়রানি করছে। এতে আন্দোলন আরও জোরদার হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪