মামুনুর রশীদ, ভাঙ্গা প্রতিনিধি :
পাহাড় হরিদ্রা পেশায় একজন জেলে। দুটি গরু কিনে লালন পালন করেছিল কোরবানি ঈদের হাঁটে কিছুটা ভালো দাম পাওয়ার আশায়। কিন্তু হাটে এসে দেখেন কোরবানি পশুর কোন ঘাটতি নেই। গোটা হাটজুড়ে পশু উঠেছে কিন্তু ক্রেতার অভাব চলছে।
এঘটনা ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ স্থায়ী পশুর হাটের। হরিদ্রা জেলের মত আরও গরুর খামারিরা ও স্থানীয় গরুর মহাজনেরা গরুর আতালে পাশে দাড়িয়ে অপেক্ষায় ক্রেতার।
চলতি বছর ভাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন সরকারিভাবে সংরক্ষিত ৫টি স্থায়ী গরুর হাটে কোরবানি পশু বিক্রয়ের উপযোগীর বাইরে আর কোন পশুর হাট মিলতে দেয়নি।
কোরবানি ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি। ঈদের শেষ মুহূর্তে বৃহস্পতিবার ছিল মুনসুরাবাদ হাটটি কোরবানি পশুর বিক্রির শেষ হাট। কিন্তু এহাটে গরু ও ছাগলের বেশ আমদানি দেখা গেছে। ভাঙ্গা উপজেলার বাহিরে বিভিন্ন জেলা থেকে গরুর মহাজন ও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পরিবহণ করে হাটে গরু ও ছাগল বিক্রি করতে এনেছে। কিন্তু সরজমিন গিয়ে জানা গেছে কোরবানির পশু বিক্রি করতে আসা কৃষক পরিবার ও মহাজন মালিকদের হতাশার কথা। তাদের কারো কারো বক্তব্য এবার ঈদুল আজহায় হাসির ফোঁটা ফুটে ওঠেছে ক্রেতাদের মুখে। ক্রেতারা চাহিদার তুলনায় অল্প দামে কাঙ্ক্ষিত কোরবানির পশু ক্রয় করে ঘরে ফিরছেন। সেখানে একজন গৃহস্থ বা পশুর খামারির মালিক সঠিক দাম না পেয়ে বুকে কষ্টের পাথর চেপে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছে। খামারিদের মতে, হাঁটে যেভাবে গরু ও ছাগলের আমদানি হয়েছে সেই হারে কোরবানি পশু বিক্রি করতে পারলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হতে পারতো। কিন্তু সে আশাটুকু ক্ষীণ হওয়ায় স্থানীয় গরুর মহাজন ও কৃষক পরিবারগুলো সন্ধ্যা নামতেই গরু ও ছাগল নিয়ে বাড়িতে ফেরত গেছেন।
আলগী ইউনিয়নের হালিম মাতুব্বর বলেন, বাড়ির পাশের জনৈক মহিলার কাছ থেকে চারটি ছাগলের বাচ্চা কিনে বড় করেছিল বিবি বাচ্চারা। ভেবে ছিলাম ছাগল বিক্রির টাকায় পরিবারের লোকজনের ঈদের কেনাকাটা করতে পারবো। কিন্তু পশুর হাটের যে বেহাল অবস্থা? গরুর দামই উঠে না। সেখানে ছাগল বিক্রয় করবো কেমনে?
ভাঙ্গা পৌর এলাকার ব্যবসায়ী লালন মিয়া বলেন, মহল্লার সাতটি পরিবার মিলে একটি পশু কোরবানি দেওয়ার নিয়ত মুনসুরাবাদ পশুর হাটে এসেছিলাম। আমাদের টার্গেট ছিল ২ লাখ টাকার মধ্যে কোরবানি পশু কেনার। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ সেখানে পৌনে দুলাখ টাকায় আমাদের চাহিদা পুরণ হয়েছে। তারমতে প্রতি বছর কোরবানি পশুর হাটগুলতে শেষ সময়ে দাম চড়াও হয়ে ওঠে কিন্তু এবছরে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম বলে জানান।
হাট মালিক পক্ষের ইজারাদার বাহাউদ্দীন জিতু মুন্সী বলেন, বছরের দুটো ঈদের সময়ে সাধারণত একটু ভালো কেনাবেচা হবে আমরা প্রত্যাশা করি। পশু বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে হাট এলাকায় নিবি্ঘনে কেনাবেচার জন্য সকল ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মুনসুরাবাদ হাটের পরিস্থিতি দেখে নিজেরাও কিছুটা হতাশ হলেও তিনি আশাবাদী রাতের বেলায় হাট থাকায় হাটের ক্রেতা, বিক্রেতা ও ইজারাদারদের মুখে হাসি ফোঁটা ফুটে ওঠবে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরুর হাট ও জনগণের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ভাঙ্গা থানা অফিসার ইন চার্জ মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন রাতের বেলায় কোরবানি পশুর হাট এলাকায় পুলিশ সদস্যরা টহল ও পর্যায়ক্রমে সার্বিক নিরাপত্তায় সচেষ্ট ভাবে কাজ করছে।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস