| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আল জাজিরা প্রতিবেদন

নিউইয়র্কে শিখ নেতাকে হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা স্বীকার ভারতীয় নাগরিকের

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৬ ইং | ১৪:২৮:৩২:অপরাহ্ন  |  ৫৪৫৮৪৭ বার পঠিত
নিউইয়র্কে শিখ নেতাকে হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা স্বীকার ভারতীয় নাগরিকের
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি:আল জাজিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০২৩ সালে ভাড়াটে খুনি নিয়োগের ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়ার কথা মার্কিন আদালতে স্বীকার করেছেন এক ভারতীয় নাগরিক। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

৫৪ বছর বয়সী নিখিল গুপ্ত শুক্রবার আদালতে দোষ স্বীকার করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পান্নুনকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। পান্নুন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দ্বৈত নাগরিক এবং নিউইয়র্কভিত্তিক ‘Sikhs for Justice’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, যা ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যকে পৃথক করে ‘খালিস্তান’ রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে প্রচারণা চালায়।

আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক সারাহ নেটবার্নকে গুপ্তা জানান, ২০২৩ সালে ভারতে অবস্থানকালে তিনি অনলাইনে ১৫ হাজার ডলার স্থানান্তর করেন, যা তিনি মনে করেছিলেন হত্যাকাণ্ড কার্যকর করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে। তবে যাঁর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন, তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী সংস্থা ডিইএ’র (DEA) একজন গোপন তথ্যদাতা।

এফবিআইয়ের নিউইয়র্ক দপ্তরের সহকারী পরিচালক রোমান রোজাভস্কি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার কারণেই পান্নুন “আন্তর্জাতিক দমন-পীড়নের লক্ষ্যবস্তুতে” পরিণত হয়েছিলেন।

২০২৩ সালের জুনে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগ বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া গুপ্তাকে পরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস জানায়, তিনি ‘ভাড়াটে খুন, ভাড়াটে খুনের ষড়যন্ত্র এবং অর্থপাচারের ষড়যন্ত্র’-এর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।

ফেডারেল সাজা নির্দেশিকা অনুযায়ী, গুপ্তার ২০ থেকে ২৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী তাকে কমপক্ষে ২০ বছর কারাভোগ করতে হবে। আগামী ২৯ মে তার সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন ও কানাডীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ষড়যন্ত্র বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় ভিন্নমতাবলম্বীদের টার্গেট করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। এ অভিযোগ ওয়াশিংটন, অটোয়া ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ককে টানাপোড়েনে ফেলেছে। তবে ভারত সরকার এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এমন কোনো অভিযান সরকারি নীতির পরিপন্থী।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা Vikash Yadav এই পরিকল্পনা পরিচালনা করেন এবং ২০২৩ সালের মে মাসে গুপ্তাকে ভাড়াটে খুনি নিয়োগের দায়িত্ব দেন। ইয়াদব বর্তমানে পলাতক।

আদালত শুনানিতে পান্নুনের সমর্থনে প্রায় দুই ডজন শিখ কর্মী উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে তারা ‘খালিস্তান’ পতাকা নিয়ে আদালতের বাইরে প্রার্থনা সভা করেন।

নয়াদিল্লির কাছে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত পান্নুন শুনানি শেষে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রয়োজনে প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও তিনি তার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তিনি নিজেকে মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, পাঞ্জাবকে এমন একটি অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে চান যেখানে সব ধর্মের সমান অধিকার থাকবে।

গুপ্তাকে তিনি একজন মাত্র কার্যকরী সদস্য আখ্যা দিয়ে বলেন, পরিকল্পনার অনুমোদন ও অর্থায়নের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ভারত সরকার তার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪