| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইইউর বাজারে পোশাকে বাংলাদেশের আয় কমেছে ১২ শতাংশ

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২৬ ইং | ১২:৫৩:৪৭:অপরাহ্ন  |  ৬০০৯৭৫ বার পঠিত
ইইউর বাজারে পোশাকে বাংলাদেশের আয় কমেছে ১২ শতাংশ

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ২০২৫ সালের পুরো বছরে সামান্য প্রবৃদ্ধি থাকলেও বছরের শেষ মাসে ইউরোপীয় বাজারে স্পষ্ট ধাক্কার চিত্র দেখা গেছে। ইউরোস্ট্যাট-এর সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, ডিসেম্বর ২০২৪-এর তুলনায় ডিসেম্বর ২০২৫-এ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর মোট পোশাক আমদানি মূল্য কমেছে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ।

তবে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে ইইউর মোট তৈরি পোশাক আমদানি ২ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এ প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে আমদানির পরিমাণে ১৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে গড় একক মূল্য কমেছে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা বাজারে তীব্র মূল্যচাপের ইঙ্গিত দেয়।

ডিসেম্বরে বাংলাদেশের চিত্র: দামে বড় পতন

ডিসেম্বর মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে স্পষ্ট নিম্নগতি দেখা গেছে। ডিসেম্বর ২০২৪-এর তুলনায় ডিসেম্বর ২০২৫-এ- রফতানি মূল্য কমেছে ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ, সরবরাহের পরিমাণ কমেছে ০ দশমিক ৬১ শতাংশ, গড় একক দাম কমেছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ পরিমাণ প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও একক দাম কমে যাওয়ায় মোট আয় বড় আঘাত পেয়েছে।

পুরো বছরের হিসাবে বাংলাদেশের রফতানি ১৮ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১৯ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে- প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ। রফতানির পরিমাণ ১০ দশমিক ২০ শতাংশ বাড়লেও গড় একক মূল্য ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমেছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান

ইইউ বাজারে শীর্ষ সরবরাহকারী চীন ২৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি। দেশটির রফতানি পরিমাণ ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বাড়লেও একক মূল্য ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমেছে- যা দামের প্রতিযোগিতার প্রমাণ।

ভিয়েতনাম ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের রফতানি করেছে এবং তাদের একক মূল্য ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়েছে- যা তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক সংকেত।

অন্যদিকে তুরস্ক-এর রফতানি ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। ভারত ও পাকিস্তান সীমিত প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।

বাজারে কী ঘটছে?

ডিসেম্বরের উপাত্তে তিনটি প্রবণতা স্পষ্ট-

১. বড় অর্ডারের বদলে সতর্ক ক্রয়নীতি

২. দামে তীব্র প্রতিযোগিতা

৩. বাজার ধরে রাখতে সরবরাহকারীদের মূল্যছাড়

উৎসব-পরবর্তী বিক্রি কমে যাওয়া ও ভোক্তা ব্যয় সংকোচনের প্রভাব নতুন অর্ডারে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বাংলাদেশের জন্য বার্তা

বাংলাদেশের পোশাকশিল্প দীর্ঘদিন ধরে বৃহৎ পরিমাণ সরবরাহ সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। তবে একক দাম কমে গেলে আয় দ্রুত কমে যেতে পারে- ডিসেম্বরের তথ্য তা স্পষ্ট করেছে।

উৎপাদন ব্যয়- বিশেষত মজুরি, জ্বালানি ও কাঁচামালের মূল্য- বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় মুনাফা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য এখন প্রয়োজন- উচ্চমূল্যের ও ফ্যাশন-ভিত্তিক পণ্যে জোর, নকশা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ, 

বাজার বৈচিত্র্যকরণ, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি।

সামনে কী?

ডিসেম্বরের নিম্নগতি সাময়িক হলে নতুন বছরে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে ভোক্তা চাহিদা দীর্ঘ সময় দুর্বল থাকলে দামের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে।

সামগ্রিকভাবে ইইউ বাজারে এখন পরিমাণের চেয়ে দামের লড়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের জন্য তাই চ্যালেঞ্জ- বাজার ধরে রেখে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে টেকসই আয় নিশ্চিত করা।

রিপোর্টার্স২৪/আরকে

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪