| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে পাঞ্জাবের ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২৬ ইং | ২০:৪৯:১৮:অপরাহ্ন  |  ৪৮১০৭৬ বার পঠিত
বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে পাঞ্জাবের ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সংগঠিত অপরাধ দমনে গঠিত এলিট ইউনিট ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট (সিসিডি)–এর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। Human Rights Commission of Pakistan (এইচআরসিপি) প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আট মাসে সিসিডির অভিযানে অন্তত ৯২৪ জন সন্দেহভাজন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV-এর হাতে এসেছে বলে জানা গেছে।

আট মাসে ৬৭০ ‘এনকাউন্টার’

২০২৫ সালের শুরুতে পুলিশ অর্ডিন্যান্সে সংশোধন এনে পাঞ্জাব সরকার সিসিডি গঠন করে। “সেইফ পাঞ্জাব” কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউনিটটিকে সংগঠিত ও সহিংস অপরাধ দমনে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

কিন্তু এইচআরসিপির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-ডিসেম্বর সময়ে সিসিডির নেতৃত্বে অন্তত ৬৭০টি পুলিশ ‘এনকাউন্টার’ হয়েছে, যাতে নিহত হয়েছেন ৯২৪ জন। একই সময়ে নিহত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা মাত্র দুইজন।

মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, প্রকৃত বন্দুকযুদ্ধে এমন একতরফা হতাহতের হার অস্বাভাবিক এবং এটি নিয়মিত প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। পর্যালোচিত সময়ে গড়ে প্রতিদিন দুটিরও বেশি এনকাউন্টার হয়েছে।

বড় শহরগুলোতে বেশি ঘটনা

ঘटनাগুলো পাঞ্জাবজুড়ে ঘটলেও লাহোরে সর্বোচ্চ ১৩৯টি এনকাউন্টার নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া ফয়সালাবাদ, শেখুপুরা ও গুজরানওয়ালায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঘটনা ঘটেছে।

নিহতদের বিরুদ্ধে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বহু ঘটনায় অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ অনুপস্থিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘কপি-পেস্ট’ বর্ণনার অভিযোগ

এইচআরসিপি বলেছে, বিভিন্ন জেলার এফআইআর ও পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রায় অভিন্ন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে—সন্দেহভাজনরা গুলি চালায়, পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়, সহযোগীরা অন্ধকারে পালিয়ে যায় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়ার পর মারা যায়।

স্বাধীন কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর উপস্থিতির উল্লেখ নেই এবং এমন কোনো উদাহরণ পাওয়া যায়নি যেখানে সন্দেহভাজন কেউ আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। সংস্থাটির ভাষ্য, এসব বিবরণ “কপি-পেস্ট” ধাঁচের, যা ঘটনাগুলোর স্বতঃস্ফূর্ততা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে।

পরিবারের গুরুতর অভিযোগ

নিহতদের পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে, অনেককে আগে বেআইনিভাবে আটক করা হয় এবং পরে ‘এনকাউন্টার’ দেখিয়ে হত্যা করা হয়। মরদেহ হস্তান্তরে বাধা, দ্রুত দাফনের জন্য চাপ এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

একটি ঘটনায় বাহাওয়ালপুর ও সাহিওয়ালের একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যকে পৃথক অভিযানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, তারা আগে থেকেই সিসিডির হেফাজতে ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।

আইনি প্রক্রিয়া মানা হয়নি?

পাকিস্তানের আইনে হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় বাধ্যতামূলক ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত ও স্বাধীন অনুসন্ধানের বিধান রয়েছে। ২০২২ সালের টর্চার অ্যান্ড কাস্টডিয়াল ডেথ (প্রিভেনশন অ্যান্ড পানিশমেন্ট) আইনের আওতায় ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির তত্ত্বাবধানের কথাও বলা হয়েছে।

কিন্তু এইচআরসিপির দাবি, সিসিডি-সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ ঘটনায় এসব বিধান অনুসরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত নজরদারিতে ব্যাপক ক্ষমতা প্রয়োগ করে সিসিডি কার্যত সমান্তরাল পুলিশ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। এতে নির্দোষ ধারণার নীতি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং বিচার বিভাগকে পাশ কাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিচারক-জুরি-কার্যনির্বাহী—সব ভূমিকাই পালন করছে।

আদালতের নজর ও সুপারিশ

লাহোর হাই কোর্টে কথিত সাজানো এনকাউন্টার নিয়ে প্রতিদিন একাধিক আবেদন জমা পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভেহারির এক ঘটনায় সিসিডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। তবে সংস্থাটির মতে, এসব পদক্ষেপ এখনো বিচ্ছিন্ন এবং কাঠামোগত সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট নয়।

প্রতিবেদনের উপসংহারে এইচআরসিপি অবিলম্বে এনকাউন্টার কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ, ৯০০-র বেশি মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং স্বাধীন বেসামরিক নজরদারি ব্যবস্থা গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটির সতর্কবার্তা—অপরাধ দমনের কৌশল হিসেবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে স্বাভাবিক করে তোলা হলে তা পাকিস্তানের আইনি কাঠামো ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদে গভীর সংকট তৈরি করবে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪