ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) পরপর কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দুই দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৮।
একই দিনে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন এলাকাতেও ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর।
United States Geological Survey জানায়, ৫ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী কাবুল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে কম্পন অনুভূত হওয়ায় অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
রাজধানীর পশ্চিমে অবস্থিত বামিয়ান ও ওয়ারদাক প্রদেশের বাসিন্দারাও তীব্র কম্পনের কথা জানিয়েছেন। অনেক স্থানে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আফগানিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চল ভূকম্পনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এখানেই ইউরেশীয় ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল হওয়ায় মাঝেমধ্যেই শক্তিশালী কম্পন আঘাত হানে।
স্মরণ করা যায়, ২০২৫ সালের আগস্টে দেশটির পূর্বাঞ্চলে ৬ মাত্রার অগভীর ভূমিকম্পে পাহাড়ি গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সে সময় দুই হাজার দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর প্রকাশিত হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ পর উত্তর আফগানিস্তানে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে অন্তত ২৭ জন নিহত হন।
এর আগে ২০২৩ সালে ইরান সীমান্তবর্তী পশ্চিমাঞ্চলের হেরাত এলাকায় এবং ২০২২ সালে নানগারহার প্রদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পে শত শত মানুষ প্রাণ হারান, ধ্বংস হয় হাজার হাজার ঘরবাড়ি।
এদিকে পাকিস্তানেও একইদিনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম Dawn জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৯ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চল। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০১ কিলোমিটার।
পাকিস্তানের শাংলা, সোয়াত, মারদান, সোয়াবি ও নওশেরা জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। অনেক মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেন।
দুই দেশে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম