| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইউনেস্কোতে মাতৃভাষা দিবস: ভাষা সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২৬ ইং | ১৬:৫৮:১৮:অপরাহ্ন  |  ৪৭৪৭৫৫ বার পঠিত
ইউনেস্কোতে মাতৃভাষা দিবস: ভাষা সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বহুভাষাবাদ চর্চায় নতুন কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংস্থাটির নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ড. খালেদ এল এনানি।

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের শিক্ষাজীবনই মাতৃভাষা চর্চা ও বহুভাষিক দক্ষতা অর্জনের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে মহাপরিচালক এ কথা বলেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অংশগ্রহণে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও প্রসারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে ইউনেস্কো।

বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষা সংরক্ষণে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান। বাংলা ভাষায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ইউনেস্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মিশরের নাগরিক ড. এনানি তার বক্তব্যের একটি অংশ নিজ মাতৃভাষা আরবিতে উপস্থাপন করেন। এবারের আয়োজনে একটি বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

প্রথমবারের মতো ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি, নির্বাহী পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং মহাপরিচালক– এই তিন শীর্ষ কর্মকর্তা একসঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতি আয়োজনে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও সংস্থাটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে ইউনেস্কোর কার্যক্রম বিশ্বের মানুষের কাছে তাদের নিজ নিজ ভাষায় পৌঁছে দেওয়া জরুরি। মাতৃভাষা সংরক্ষণে একটি শক্তিশালী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি তরুণদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নির্বাহী পর্ষদের সভাপতি ও কাতারের রাষ্ট্রদূত নাসের হিনজাব মাতৃভাষা সংরক্ষণে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং এ বছরের আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।

এ বছরের আয়োজনের প্রথম পর্বে ‘শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে ভাষার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তানজানিয়ার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ও পূর্ব তিমুরের শিক্ষামন্ত্রী অংশ নেন। তানজানিয়ার মন্ত্রী তার বক্তব্যের একটি অংশ নিজ মাতৃভাষা সোয়াহিলিতে উপস্থাপন করেন।

দক্ষিণ আমেরিকার ইনকা সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা কেচুয়া ভাষার একজন ভাষাবিদও আলোচনায় অংশ নেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্পেনের ভাষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড্যামিয়েন ব্লাসি। আলোচকরা নিজ নিজ বক্তব্যে মাতৃভাষার ব্যবহার করে ভাষাগত বৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

দিবসের দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাংলাদেশ ছাড়াও লুক্সেমবুর্গ, আজারবাইজান, মলদোভা, ইউক্রেন, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল ও প্যারিসের একটি বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশিত লোকসংগীত উপস্থিত কূটনীতিক ও অতিথিদের প্রশংসা কুড়ায়।

অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন। মাতৃভাষা সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব তাদের গর্বিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪