আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কিছু স্থানে সরকারপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
বিক্ষোভগুলো এমন সময় শুরু হয়, যখন গত মাসের সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহতদের স্মরণে ৪০ দিনের শোকানুষ্ঠান পালিত হচ্ছিল। গত মাসের সহিংসতা ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির অন্যতম বড় অস্থিরতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের শারিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি-এ শিক্ষার্থীদের মিছিল। সেখানে তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং নির্বাসিত সাবেক শাহর পুত্র রেজা পাহলভিকে নতুন রাজতন্ত্রের দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্র-সমর্থিত সংবাদ সংস্থ ্এস্এএন প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, শারিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারপন্থী বাসিজ মিলিশিয়ার সদস্যদের সংঘর্ষ। অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ করলে কয়েকজন বাসিজ সদস্য আহত হন। বাসিজ বাহিনী সাধারণত নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করে বিক্ষোভ দমনে ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া তেহরানের শাহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়, আমিরকাবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ বিশ্ববিদ্যালয় (মাশহাদ)-এও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। মানবাধিকারভিত্তিক সংগঠন হালভাশে প্রকাশিত ভিডিওতে এসব ঘটনার উল্লেখ করা হলেও স্বাধীনভাবে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সরকারি পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি