আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আইএস সিরিয়ার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে সিরীয় সেনাবাহিনীর ওপর দুটি হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে “অভিযানের নতুন পর্যায়” শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, দেইর আল-জোর প্রদেশের মায়াদিন শহরে “সিরীয় শাসনের একজন সদস্যকে” পিস্তল দিয়ে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এছাড়া উত্তরাঞ্চলীয় রাক্কা শহরে আরও দুই সেনাসদস্যের ওপর মেশিনগান হামলার কথাও তারা জানায়। তাদের প্রচারমাধ্যম দাবিকের বরাত দিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার “অজ্ঞাত হামলাকারীদের” গুলিতে এক সেনাসদস্য ও এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। রয়টার্সকে এক সামরিক সূত্র জানায়, নিহত সেনা সদস্য ৪২তম ডিভিশনের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এই হামলাগুলো এমন সময় ঘটল, যখন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে আইএস তৎপরতা জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শারা ২০১৬ সালে আল-কায়েদা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ২০২৪ সালের শেষদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদকে উৎখাতে ইসলামপন্থী জোটের নেতৃত্ব দেন।
শনিবার সন্ধ্যায় আইএসের মুখপাত্র আবু হুদাইফা আল-আনসারি এক অডিও বার্তায় দাবি করেন, সিরিয়া “ইরানি দখল” থেকে “তুর্কি-আমেরিকান দখলে” চলে গেছে। তিনি শারাকে বৈশ্বিক জোটের “প্রহরী” আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ার করেন, তার পরিণতিও আসাদের মতোই হবে।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে শারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আইএসবিরোধী বৈশ্বিক জোটে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তির নথিতে স্বাক্ষর করেন।
এর দুই দিন আগেও দেইর আল-জোরে আরেক হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএস, যাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সদস্য নিহত ও আরেকজন আহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রামভিত্তিক আইএস-সমর্থিত কয়েকটি চ্যানেলে সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেল ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আসাদ পতনের পর থেকে এখন পর্যন্ত সিরীয় সরকারি লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ছয়টি হামলা চালানোর দাবি করেছে আইএস। জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদবিরোধী দপ্তরের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শারা ও তার মন্ত্রিসভার দুই জ্যেষ্ঠ সদস্যের ওপর পাঁচটি ব্যর্থ হত্যাচেষ্টার পেছনেও আইএস জড়িত ছিল।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি