আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিয়ো গুতেরেসকে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক আগ্রাসন চালালে তেহরান “কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক” জবাব দেবে। একই সঙ্গে ইরান সতর্ক করেছে, এ ধরনের হামলা হলে অঞ্চলে থাকা “শত্রু শক্তির” ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইরানের স্থায়ী মিশন চিঠিতে উল্লেখ করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প’র বক্তব্য “বাস্তব সামরিক আগ্রাসনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।” তবে তেহরান যুদ্ধ চায় না বলেও জানানো হয়।
ইরানের এই প্রতিক্রিয়া আসে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির পর। তিনি বলেছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি “অর্থবহ চুক্তি” করতে হবে, নচেৎ “খারাপ কিছু” ঘটতে পারে। গাজায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত তার উদ্যোগের উদ্বোধনী বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে অর্থবহ চুক্তি করা সহজ নয়। কিন্তু তা না হলে খারাপ কিছু ঘটবে। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র “আরও এক ধাপ এগোতে” পারে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেন্জামিন নেতানিয়াহু-ও ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, আয়াতুল্লাহরা যদি ভুল করে আমাদের ওপর হামলা চালায়, তারা কল্পনাতীত জবাব পাবে।
সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এ উত্তেজনা বাড়ল। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে চায়, যদিও তেহরান দাবি করে তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। যুদ্ধজাহাজ, ফাইটার জেট ও রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। পাশাপাশি আরেকটি বিমানবাহী রণতরীও অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।
ইরানও নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া চালিয়েছে। ইরানের রাজনীতিকরা একাধিকবার বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের এক-চতুর্থাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বাড়তে শুরু করেছে।
পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল আশঙ্কা করছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই আলোচনার ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য সংঘাতের দিকনির্দেশ স্পষ্ট হতে পারে। সূত্র: টিটিওয়ার্ল্ড
রিপোর্টার্স২৪/এসসি