আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেন্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের দেশগুলোকে নিয়ে ইসরায়েল একটি আঞ্চলিক জোট গড়ে তুলতে চায়, যা তাঁর ভাষায় ‘র্যাডিক্যাল’ শক্তির মোকাবিলা করবে।
রোববার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র আসন্ন ইসরায়েল সফর ঘোষণা করতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ভারত সেই দেশগুলোর অংশ হবে যারা ইসরায়েলের সঙ্গে একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু বলেন, তাঁর কল্পিত কাঠামো হবে এক ধরনের ‘হেক্সাগন’ বা বহুপাক্ষিক জোট, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভেতরে বা চারপাশে গড়ে তোলা হবে। তাঁর দাবি, এই জোট ‘র্যাডিক্যাল শিয়া অক্ষ’ এবং ‘উদীয়মান র্যাডিক্যাল সুন্নি অক্ষ’-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।
তিনি গ্রিস, সাইপ্রাসসহ কয়েকটি আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশের কথাও উল্লেখ করেন, যদিও নির্দিষ্টভাবে সবার নাম জানাননি।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক ‘আস্থা, উদ্ভাবন ও শান্তি-অগ্রগতির অভিন্ন অঙ্গীকার’-এর ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং এই বন্ধুত্বকে ভারত গভীরভাবে মূল্য দেয়।
গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
গাজায় চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ইরান-সমর্থিত তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ যার মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ রয়েছে। গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের সরাসরি সংঘর্ষও হয়েছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলায় অংশ নেয়।
তবে ‘উদীয়মান র্যাডিক্যাল সুন্নি অক্ষ’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি নেতানিয়াহু। অতীতে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডকে এ ধরনের শক্তির অন্যতম উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
সুন্নি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে টানাপোড়েন
গাজায় রক্তপাতের জেরে কয়েকটি সুন্নি-প্রধান মুসলিম দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক টানাপোড়েনে রয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করেছেন। সৌদি আরবও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে।
ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে এসেছে। দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের পদক্ষেপ এবং সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনায় সৌদি আরব আপত্তি জানিয়েছে।
২০২০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর আওতায় ইসরায়েল আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। এই কাঠামোর অধীনে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কোর সঙ্গে ইসরায়েল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যখন অনেক দেশ ইসরায়েলের থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে, তখন ভারতসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ইসরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার কৌশলের অংশ হতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/এসসি