আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আদালতের শুল্ক (ট্যারিফ) রায়ের সম্পূর্ণ মূল্যায়ন করছে এবং ওয়াশিংটনকে বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর একপক্ষীয় শুল্ক ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোমবার বলেছে, দুই দেশের মধ্যে সংঘাত ‘ক্ষতিকর’।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একপক্ষীয় শুল্ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ম ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইনের পরিপন্থী এবং কোনো পক্ষের স্বার্থে নয়। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা উভয়ের জন্য লাভজনক, কিন্তু সংঘাত ক্ষতিকর।
শীর্ষ আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন ১০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন এবং পরে তা ১৫%-এ উন্নীত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদেরও এটি অবাক করেছে।
চীনের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ গাও লিংইউন গাও লিংইউন স্টেট-রান সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত স্বেচ্ছাচারী এবং রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শুল্ক নীতি অবশ্যই কঠোর মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করা উচিত, রাজনৈতিক পছন্দের ওপর নয়।
শুল্ক ও বাণিজ্য বিষয়ক ইস্যু দুটি দেশের জন্য আরও গুরুত্ব পাবে, বিশেষ করে মার্চের শেষ দিকে এবং এপ্রিলের প্রথম দিকে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে বৈঠক করার সময়।
নতুন এক আইনের অধীনে ট্রাম্পের পরিকল্পিত শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫% পর্যন্ত হতে পারে, তবে ১৫০ দিনের পরে সম্প্রসারণের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এর আগে কোনো রাষ্ট্রপতি এই ধারা প্রয়োগ করেননি, যা ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “স্বার্থের ভারসাম্য” বজায় রাখতে পরামর্শ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে। ভারতও নতুন শুল্ক অনিশ্চয়তার কারণে এ সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা স্থগিত করেছে। ইউরোপেও ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড নতুন শুল্কের সম্ভাব্য ব্যবসায়িক ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন।
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক রায় ও নতুন সিদ্ধান্তগুলো চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও ইউরোপীয় বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি করেছে। রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি