| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

প্রতিবন্ধী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২৬ ইং | ১৭:৩১:০৪:অপরাহ্ন  |  ৫৬০৭৭৬ বার পঠিত
প্রতিবন্ধী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় কীর্তন শুনে বাড়ি ফেরার পথে এক প্রতিবন্ধী নারীকে (২৬) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দাখিল করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে শশীগঞ্জ এলাকার দাসপাড়া নেপাল কবিরাজের বাড়ির সামনে থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

পরে ডাক্তারের পরামর্শে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

ধর্ষণের শিকার ওই মহিলা জুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের দড়িচাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এক সন্তানের মা। কয়েক মাস আগে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশ ও নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে, স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারী কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী। রবিবার রাতে তজুমদ্দিন উপজেলার আড়ালিয়া গ্রামের অনিল সাধুর আশ্রমেকীর্তন শুনতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে তিন যুবক তাকে তুলে নিয়ে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। মোটর সাইকেল চালক রাকিব, রাসেল ও শাকিল নামের তিন যুবককে অভিযুক্ত করা হলেও তাদের পুরো পরিচয় জানা যায়নি।

ভুক্তভোগী ওই নারী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে স্থানীয় আড়ালিয়া গ্রামে অনীল বাবাজীর তিরোধান উৎসবে (কীর্তন) যোগ দেন তিনি। রাত ৯টার দিকে পরিচিত অটোচালক রাকিব, শাকিল ও রাসেল তাকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে অটোরিকশায় তুলে নেয়। এরপর তারা শশীগঞ্জ গ্রামের দাসপাড়া ধোপাবাড়ির মোড় এলাকায় নিয়ে ওই নারীর মুখ চেপে ধরে পাশের একটি সুপারি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক রাতভর পালাক্রমে নির্যাতন চালায়। ভোর রাতে শশীগঞ্জ দাসপাড়া গ্রামে সাহরির পর মুসল্লিরা মসজিদে যাওয়ার সময় স্থানীয় ফারুক নামের এক ব্যক্তি ওই নারীকে বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী স্বপন দাসের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী কথা বলার সময় কথা জড়িয়ে গেলেও জানান যে রাকিব, শাকিল ও রাসেল নামের তিন যুবক তাকে তুলে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ওই অভিযুক্তদের বিস্তারিত পরিচয় ও ঠিকানা জানাতে পারেনি।

তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সামছুল আলম সোহেল জানান, ওই নারীকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সকালের দিকে তজুমদ্দিন থানা পুলিশের সহায়তায় এক নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাকে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত। 

তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে রক্তমাখা জামাকাপড় উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে এবং এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪