আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কংগ্রেসে দেওয়া স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল মার্কিন সামরিক শক্তি জড়ো করার মধ্যেও ট্রাম্প এতদিন স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেননি কেন তিনি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন। ভাষণের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরান আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে। (ইরানের) শাসনব্যবস্থা এবং তাদের হত্যাকারী প্রতিনিধিরা সন্ত্রাস, মৃত্যু ও ঘৃণাই ছড়িয়েছে, বলেন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরান আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করেছে, এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা “শিগগিরই” যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম হবে এবং রাস্তার পাশে বোমা হামলার মাধ্যমে মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য দায়ী। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, তেহরান উত্তর আমেরিকায় পৌঁছাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে কাজ করছে।
ভাষণের আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে সমঝোতা না হলে সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে,এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, তারা (ইরান) চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমরা সেই গোপন শব্দগুলো শুনিনি; আমরা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করব না। ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক গবেষণা বেসামরিক জ্বালানি উৎপাদনের জন্য।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে ট্রাম্পের বক্তব্যকে “বড় বড় মিথ্যার পুনরাবৃত্তি” বলে উল্লেখ করেন।
ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব ও গোয়েন্দা কমিটির সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘গ্যাং অব এইট’-কে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং দেন। এ সময় সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, ইরান বিষয়ে কিছু করতে চাইলে তা জনগণের সামনে প্রকাশ্যে আলোচনা করা উচিত। গোপনে সামরিক অভিযান চালালে দীর্ঘ যুদ্ধ, ট্র্যাজেডি ও ব্যয় বাড়ে।
উপদেষ্টারা ট্রাম্পকে অর্থনীতি, অভিবাসনসহ অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিলেও, ভাষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তিনি ইরান ইস্যুতেই ব্যয় করেন। রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সমর্থক এবং দীর্ঘস্থায়ী ‘ফরএভার ওয়ার’-এর অবসান চায়। তবে জরিপে দেখা গেছে, বিদেশি সংঘাতে জড়াতে আমেরিকানদের বড় অংশ অনাগ্রহী। জানুয়ারির এক রয়টার্স/ইপসোস জরিপে ৬৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, কেবল সরাসরি ও আসন্ন হুমকির মুখেই সামরিক শক্তি ব্যবহার করা উচিত।
গত বছর ট্রাম্প ইরানে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, তাতে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সহকারীরা বলছেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
মঙ্গলবারের ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমি যেখানে সম্ভব শান্তি প্রতিষ্ঠা করব, কিন্তু আমেরিকার জন্য হুমকি দেখা দিলে মোকাবিলায় কখনো দ্বিধা করব না।”
রিপোর্টার্স২৪/এসসি