| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মেয়েকে পাশে নিয়ে সামরিক কুচকাওয়াজে উপস্থিতি

পারমাণবিক শক্তি বাড়ানোর অঙ্গীকার কিমের

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৬ ইং | ১৪:২৫:৩৫:অপরাহ্ন  |  ৪৪৫০৮৩ বার পঠিত
পারমাণবিক শক্তি বাড়ানোর অঙ্গীকার কিমের
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেছেন। বুধবার রাতে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে তিনি কিশোরী কন্যাকে পাশে নিয়ে উপস্থিত হন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের কিম ইল সুং স্কয়ার–এ প্রায় ১৪ হাজার সেনা অংশ নেয়। ফ্লাডলাইটের আলোয় কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া সেনাদের ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায়।

কিমের মেয়ে, যাকে ব্যাপকভাবে ‘জু অ্যে’ নামে ডাকা হয়, আবারও প্রকাশ্যে বাবার পাশে দেখা দেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে,এমন জল্পনা থাকলেও সদ্য সমাপ্ত পাঁচ বছর পরপর অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টি কংগ্রেসে তার কোনো নতুন আনুষ্ঠানিক পদ ঘোষণা করা হয়নি।

সমাপনী ভাষণে কিম বলেন, জাতীয় পারমাণবিক শক্তি আরও জোরদার করা এবং অস্ত্রের সংখ্যা ও মোতায়েন সক্ষমতা বাড়ানোই দলের “অটল সংকল্প”। তবে কুচকাওয়াজে উল্লেখযোগ্যভাবে ভারী সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি ছিল না। ট্যাংক, আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) বা হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকলের প্রদর্শনী দেখা যায়নি,যা সাধারণত এ ধরনের আয়োজনে দেখানো হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আরেকটি বড় বার্ষিকী কুচকাওয়াজে নতুন কৌশলগত অস্ত্র প্রদর্শনের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে একই অস্ত্র আবার দেখালে তার প্রভাব কমে যেতে পারত। ফলে এবার প্রদর্শনী ছিল তুলনামূলক সংযত।

তবে সংযত প্রদর্শনীর মধ্যেও কিম জানান, শক্তিশালী আইসিবিএম, সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ সক্ষমতা, ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ না করলেও বলেন, তা নির্ভর করবে ওয়াশিংটনের “মনোভাবের” ওপর। তার ইঙ্গিত—যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অবস্থান মেনে নিতে হবে এবং তথাকথিত “শত্রুতাপূর্ণ নীতি” পরিত্যাগ করতে হবে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড  ট্রাম্প আগামী ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, বেইজিং সফর আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে এবং প্রত্যক্ষ বা চীনের মধ্যস্থতায় ট্রাম্প-কিম সংলাপের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সম্প্রতি দেওয়া স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি, যা তার প্রথম মেয়াদে দেশটিকে ঘিরে উচ্চপর্যায়ের কূটনীতির প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। কারণ, কিমের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিম পুতিনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে দুই দেশ একটি সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে, যাতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারাও রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে উত্তর কোরিয়ার ভূমিকা পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে রাশিয়ায় যুদ্ধ করে ফেরা সেনাদের সংবর্ধনা ও নিহতদের পরিবারের প্রতি কিমের সহমর্মিতা দেখানো হয়েছে। চলতি মাসেই তিনি কয়েকটি পরিবারকে নতুন অ্যাপার্টমেন্ট উপহার দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের কুচকাওয়াজে অস্ত্রের তুলনায় সৈন্যদের উপস্থিতি ও আনুগত্যের ওপর জোর দিয়ে কিম অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও প্রস্তুতির বার্তা দিয়েছেন, তবে সবচেয়ে উসকানিমূলক অস্ত্রগুলো আড়ালে রেখেছেন। তবুও সতর্কবার্তা ছিল স্পষ্ট—রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে উদ্ধৃত করে বলা হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হলে তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা চালানো হবে।

এ প্রেক্ষাপটে আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪