রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশে তরুণ ও অবিবাহিতদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২১৯ জন রোগীর।
এক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এ তথ্য জানিয়েছে। এইচআইভি সংক্রমণের এমন হার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, ইনজেক্টেবল ড্রাগের ব্যবহার, কনডমের মতো সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার না করা, এবং যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার অভাব তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের উল্লেখযোগ্য কারণ।
সামাজিক ও পরিবার পর্যায়ে আলোচনা সীমিত থাকায় কৌতূহল ও ভুল ধারণা তরুণদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক তরুণ বলেন, ‘অন্যের ব্যবহৃত সুচ এমন ভীষণ ঝুঁকির আমি জানতাম না; জানলে কখনোই করতাম না।’আরও এক তরুণের মতে, আমাদের নিয়ে সমাজে শুধু নৈতিকতার কথা চলে, নিরাপত্তার কথা খুব কমই বলা হয়।
ইউএনএইডস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান জানান, ‘তরুণদের মধ্যে অসচেতনতা ও রোমাঞ্চের চাহিদা বহু ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তে পরিচালিত করছে।’ সচেতনতা ও নিরাপদ যৌন আচরণের শিক্ষাই এইচআইভি সংক্রমণ রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে জানান এ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
এইচআইভি সংক্রমণের এমন হার নিয়ন্ত্রণে সামাজিক লজ্জা ভাঙা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা জোরদার এবং তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।
ভাইরাসবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মিত ওষুধ নিলে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে যায়’
তিনি বলেন, ‘নিয়মিত চিকিৎসায় এইচআইভি–আক্রান্তরা প্রায় স্বাভাবিক জীবন কাটাতে সক্ষম হন। তবু অনেক তরুণ আক্রান্ত হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পরীক্ষা করাতে চান না। সামাজিক লজ্জা ও ভয় অনেকেই চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করেন।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকার এইডস আক্রান্ত এক তরুণ বলেন, আমি এখন নিয়মিত ওষুধ নিচ্ছি, কিন্তু আমার মতো ভুল আর কেউ যেন না করে।
তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, স্কুল পর্যায়ে প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ চলছে, কিন্তু সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেন সঠিকভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তা নিশ্চিত করে।
সমাজতত্ত্ব ও মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার, নগরায়ণ ও সামাজিক পরিবর্তনের কারণে তরুণদের মধ্যে যৌনতার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, কিন্তু যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা ও সঠিক ধারণার অভাব রয়েছে।
মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রযুক্তির কারণে তরুণদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো বাধাহীনভাবে পৌঁছছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম