আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ ২৪তম দিনে গড়িয়েছে। উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।
সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু: হরমুজ প্রণালি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন,হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। জবাবে ইরান জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করা হলে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পাল্টা হামলা চালাবে।
ইরানে কী ঘটছে
ইসরায়েলি বাহিনী রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে।
পশ্চিম তেহরানের কাছাকাছি কারাজ শহরে আগুন ও ধোঁয়ার বড় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।
দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর নগরী বান্দার আব্বাস-এ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকেন্দ্রে হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উরমিয়া শহরে আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম দাবি করেছে, তারা ইরানের কোম প্রদেশে ড্রোন ও বিমানযন্ত্রাংশ সংশ্লিষ্ট একটি কারখানায় হামলা চালিয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা
সৌদি আরব-এর রাজধানী রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ভূপাতিত করা হলেও অন্যটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত-এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন।
বাহরাইন-এ মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরে হামলার দাবি করেছে ইরান।
কুয়েত আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ জানিয়েছে।
কাতার-এ একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলে হামলা ও হতাহত
রাজধানী জেরুজালেমসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কসংকেত বেজে উঠেছে এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ডিমোনা ও আরাদ শহরে ইরানের হামলায় আহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮০-এ পৌঁছেছে।
লেবানন ও ইরাকে পরিস্থিতি
লেবানন-এ ইসরায়েলি হামলায় ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে।
ইরাক-এ সংঘাত সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এই সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
সিনেটর টিম কেইন ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে দেশকে যুদ্ধে জড়ানো হচ্ছে।
বৈশ্বিক প্রভাব
এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি অস্থির হয়ে উঠেছে। চীন ও হংকংয়ের শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে কিয়ার স্টারমার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ছে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টাই নির্ধারণ করতে পারে এই যুদ্ধ আরও বড় আকার নেবে কি না।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি