আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : সোমবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ভারতকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই দেশের শেয়ার বাজারে ঘটে গেল এক রক্তক্ষয়ী মহাধস।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ভারতের অর্থনীতির ওপর বিশ্ব রাজনীতির উত্তাপ না লাগার ইঙ্গিত থাকলেও, দপ্তরের পরিসংখ্যান এবং বাজার কিন্তু অন্য কথা বলছে। মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইসরায়েল-ইরান-আমেরিকার মধ্যকার ২৪ দিনের টানা সংঘাতের জেরে সোমবার ভারতীয় শেয়ার বাজার এক নজিরবিহীন পতনের সাক্ষী থাকল, যা ২০২০ সালের মার্চের সেই ভয়াবহ স্মৃতিকে ফিরিয়ে এনেছে।
সোমবারের সেশনে নিফটি ৬০২ পয়েন্ট (২.৬০%) পড়ে ২২,৫১০-এর নিচে থিতু হয়েছে এবং সেনসেক্স ১,৮৩৭ পয়েন্টেরও বেশি (২.৪৬%) ধসে ৭২,৬৫৯-এ নেমে এসেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর নিফটি তার সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে, যা কেবল এই মার্চ মাসেই ১০ শতাংশের বেশি পতন প্রত্যক্ষ করল। এটি গত ছয় বছরের মধ্যে ভারতের শেয়ার বাজারের নিকৃষ্টতম মাসিক পারফরম্যান্স।
সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিফটি ৫০০-এর মধ্যে ৪২১টি স্টক তাদের ঐতিহাসিক উচ্চতা থেকে ২০ শতাংশেরও বেশি নিচে নেমে গেছে। বিশেষ করে ধাতু, রিয়েলটি, ডিফেন্স এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোর শেয়ারের ৪ শতাংশের বেশি পতন বাজারের ভঙ্গুর দশাকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের বিপরীতে দাঁড়িয়ে মুদ্রা বাজার এবং পণ্য বাজারের ছবিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
সোমবার টাকার মূল্য মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বকালীন রেকর্ড নিচে নেমে ৯৩.৮৪-এ ঠেকেছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে, যা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য মুদ্রাস্ফীতির অশনিসংকেত।
গত ১৬টি সেশনে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ঘরোয়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কিছুটা ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করলেও, বাজারের এই অবাধ পতন আটকানো সম্ভব হয়নি। ফলে একদিকে যখন সরকারি স্তরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে তখন অর্থাৎ সোমবার সাধারণ বিনিয়োগকারীর ১৪ লক্ষ কোটি থেকে ১৫ লক্ষ কোটি টাকা বাজার থেকে মুছে গেছে। শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় বিএসই-র বাজার মূলধন ছিল ৪২৯ লক্ষ কোটি টাকা, যা সোমবার ধসে ৪১৪.৭৭ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি