সিনিয়র রিপোর্টার : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কাশ্মীর-এর বাসিন্দারা। ইরান-এর মানুষের সহায়তায় তারা দান করেছেন নগদ অর্থ, সোনা এমনকি গৃহপালিত পশুও।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আরব নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার (২৩ মার্চ) বিভিন্ন স্থানে এই সহায়তা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকেই ভেড়া ও ছাগলের মতো গবাদিপশু দান করেছেন, যা পরে বিক্রি করে অর্থ সহায়তায় রূপান্তর করা হবে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই অঞ্চলে শিয়া সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে, যাদের সঙ্গে ইরানের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সেই সম্পর্কের জায়গা থেকেই এই মানবিক উদ্যোগ এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাশ্মীরিদের এই সহায়তার ভিডিও শেয়ার করেছে এবং অনুদান পাঠানোর জন্য ব্যাংক তথ্যও প্রকাশ করেছে। এক বার্তায় তারা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লিখেছে, “আপনাদের দয়া ও মানবতা আমরা কখনো ভুলব না।”
এদিকে সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই কাশ্মীরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভও হয়েছে। এতে অংশ নেওয়া অনেকে বলছেন, এটি শুধু ধর্মীয় নয়, বরং মানবিক সংহতির বহিঃপ্রকাশ।
স্থানীয় বাসিন্দা আইমান জেহরা জানান, শুধু শিয়ারা নয়, সুন্নি সম্প্রদায়ের মানুষও সাহায্য করছেন। এটি আমাদের ঐক্যের প্রতীক।
আরেক স্বেচ্ছাসেবী আফশানা খান বলেন, যাদের কাছে অর্থ বা মূল্যবান কিছু নেই, তারা তাদের গৃহপালিত পশু দান করছেন- এটাই আমাদের সংহতি।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই কাশ্মীর অঞ্চলটি ভারত ও পাকিস্তান-এর মধ্যে বিভক্ত। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও মানবিক সংকটে এই ধরনের উদ্যোগ নতুন বার্তা দিচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে