আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি মনে করেন,এই অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি ফোনালাপে মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ সামরিক পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ইরানের কট্টরপন্থি সরকার উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘদিন ধরে হুমকি হিসেবে রয়েছে, তাই এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তা সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা প্রয়োজন।
তবে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের ভেতর থেকেই ভিন্নমত উঠে আসছে। দুই দেশের কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ইরান পাল্টা আক্রমণ জোরদার করতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে কখনও দ্রুত যুদ্ধের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছেন, আবার কখনও সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘কার্যকর আলোচনা’ হয়েছে। তবে তেহরান সেই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এর ফলে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়ার পাশাপাশি বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকিও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি