আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধ ২৬তম দিনে গড়িয়েছে। সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলেও কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে তবে সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে রয়েছে পরস্পরবিরোধী দাবি।
ইরানে পরিস্থিতি
নিরবচ্ছিন্ন হামলা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ তেহরানে সাম্প্রতিক এক হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। পূর্ব তেহরানেও বিস্ফোরণে একটি স্কুলসহ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে।
আলোচনা নিয়ে বিভ্রান্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে তেহরান এই দাবি অস্বীকার করেছে।
পারমাণবিক অবস্থান: ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ২০০৩ সালে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞামূলক ফতোয়া দিয়েছিলেন।
১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব: বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন একটি ১৫ দফা পরিকল্পনা তেহরানে পাঠিয়েছে, যা বাস্তবায়নে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান সৈয়দ আসিম মুনির।
অভ্যন্তরীণ বিভ্রান্তি: ইরানে সাধারণ মানুষের মধ্যে কূটনৈতিক দাবি ও বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, তার দেশ আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, “যুদ্ধের চেয়ে আলোচনা সবসময়ই ভালো।”
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তেহরানকে আন্তরিকভাবে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগে, তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে (রস তানুরা, গাওয়ার, আবকাইক) একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।
বাহরাইনে হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে তিনি “বড় ধরনের একটি উপহার” পেয়েছেন যা হরমুজ প্রণালী-সংক্রান্ত এবং সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩ হাজার সেনা (৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন) মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ায় ইরানি তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।
ইসরায়েলের অবস্থান
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, লেবাননে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ে তোলা হবে।
জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ইসরায়েল নেই এবং সামরিক অভিযান চলবে।
লেবানন ও ইরাক ফ্রন্ট
লেবাননে সংঘাতে ১,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন; সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৩৩ জন।
ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আশঙ্কা।
হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক প্রভাব
হরমুজ প্রণালী-এ বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে।
শ্রীলঙ্কা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাস্তার আলো বন্ধ করেছে, আর ফার্ডিনান্ড মার্কোস জুনিয়র জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হলেও অন্যদিকে হামলা ও সামরিক প্রস্তুতি বাড়ছে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি