| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জীবনযুদ্ধে হার না মানা সৈনিক: কালাইয়ের মোস্তাকিম

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ইং | ১২:৫৪:৪৭:অপরাহ্ন  |  ৩০৬ বার পঠিত
জীবনযুদ্ধে হার না মানা সৈনিক: কালাইয়ের মোস্তাকিম

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: যখন সমবয়সীরা খেলাধুলায় মেতে থাকে, তখনই মাত্র ৮ বছর বয়সে আখের মেশিনের পাশে দাঁড়াতে শিখেছিলেন মোস্তাকিম হোসেন। শৈশবের সেই হাতেখড়িই আজ তার জীবনের প্রধান অবলম্বন। ২২ বছর বয়সে এসে নিজের মেশিনে আখের রস বিক্রি করেই চালাচ্ছেন পুরো সংসার।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের বাদা উচ্চ গ্রামের এই তরুণের বেড়ে ওঠা শ্রম আর দায়িত্বের ভেতর দিয়ে। তার বাবা ছাইদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আখের রস বিক্রি করেন। বাবার পাশে থাকতে থাকতে শিশুকালেই কাজ শিখে নেন মোস্তাকিম—আখ কাটা, মেশিন চালানো, ক্রেতা সামলানো—সবই বাস্তব অভিজ্ঞতায় রপ্ত করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হেফজ পর্যন্ত সীমিত থাকলেও জীবন তাকে শিখিয়েছে কঠোর পরিশ্রম আর টিকে থাকার পাঠ। সেই অভিজ্ঞতাকেই পুঁজি করে ধীরে ধীরে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে নেন তিনি।

দীর্ঘদিনের সঞ্চয় থেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি আখের রসের মেশিন তৈরি করেন মোস্তাকিম। এ যাত্রায় পাশে ছিলেন তার বাবা। নিজের মেশিন হাতে পাওয়ার পর বদলে যায় বাস্তবতা—এখন আর নির্ভর করতে হয় না কারও ওপর, নিজেই পরিচালনা করছেন পুরো ব্যবসা।

প্রতিদিন বগুড়ার গাংনগর গ্রাম থেকে প্রায় ১০০০ টাকার আখ সংগ্রহ করে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বিক্রি করেন তিনি। কালাইয়ের পাঁচশিরা এলাকা ও ক্ষেতলালের বটতলী হাট—এই দুই জায়গাই তার প্রধান কর্মস্থল। গরমের দিনে তার ভ্রাম্যমাণ দোকানে ভিড় জমে পথচারীদের।

সাধারণ দিনে প্রায় ১৫০ গ্লাস আখের রস বিক্রি হয়। গ্লাসপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা দরে মোট বিক্রি দাঁড়ায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। সপ্তাহে দুই দিন—সোমবার ও শুক্রবার—বটতলী হাটে গেলে বিক্রি বেড়ে দাঁড়ায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায়। তবে প্রতিযোগিতার কারণে সেখানে গ্লাসপ্রতি ১০ টাকায় বিক্রি করতে হয়।

এই ব্যবসায় প্রতিদিন প্রায় ২০০ টাকা তেল খরচ হয়, যা দিয়ে গাড়ি ও মেশিন চালানো হয়। আখের দাম বাড়লেও গ্লাসের দাম বাড়াতে পারেন না তিনি। সব খরচ শেষে যা থাকে, তা দিয়েই চলে সংসার।

দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত টানা পরিশ্রম—তীব্র গরমে ঘাম ঝরানো কিংবা হঠাৎ বৃষ্টিতে বিক্রি কমে যাওয়া—এসবই তার নিত্যদিনের বাস্তবতা। তবুও থেমে থাকেন না মোস্তাকিম। পরিশ্রমই তার একমাত্র ভরসা।

২০১৯ সালে বিয়ে করেন তিনি। বর্তমানে স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তানকে নিয়ে তার ছোট সংসার। পরিবারের সব দায়িত্বই তার কাঁধে, আর সেই দায়িত্বই তাকে প্রতিদিন নতুন করে কাজের শক্তি জোগায়।

স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত ক্রেতারাও তার ওপর আস্থা রাখেন। রাস্তাঘাটে কোনো ঝামেলা ছাড়াই নিজের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

ভবিষ্যৎ নিয়ে তার স্বপ্ন স্পষ্ট—এই ছোট উদ্যোগকে বড় করে আরও কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আখের রসের দোকান চালু করা। এতে যেমন আয় বাড়বে, তেমনি তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানও।

শৈশবে বাবার কাছ থেকে শেখা একটি কাজই আজ তার জীবনের ভিত্তি। প্রতিদিনের পরিশ্রম আর স্বপ্নকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলা এই তরুণের গল্প—শুধু জীবিকার নয়, এটি আত্মনির্ভরতা, অধ্যবসায় আর নীরব সংগ্রামের এক শক্তিশালী উদাহরণ।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪