আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কূটনীতির নামে বিশ্বাসঘাতকতা যুক্তরাষ্ট্রের: ইরানদেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চলমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপ বা সমঝোতা হচ্ছে না।
ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই কঠোর ভাষায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতীত অভিজ্ঞতা অত্যন্ত তিক্ত। তার অভিযোগ, পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার সময়ই গত কয়েক মাসে দুই দফা বড় ধরনের হামলার শিকার হয়েছে ইরান। এটি কূটনীতির নামে চরম বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া কিছু নয়,বলেন তিনি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো’ আলোচনা চলছে এবং তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মতো কয়েকটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তেহরান এখনো তাতে সাড়া দেয়নি। বরং ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে তেলের বাজারে প্রভাব ফেলতে ‘মনস্তাত্ত্বিক কৌশল’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, দেশের জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। তারা বলেছে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ হচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিলছে,ততক্ষণ কোনো চুক্তির প্রশ্নই ওঠে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ওমান, কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে আড়ালে কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান চললেও প্রকাশ্যে ইরান কোনো নমনীয়তা দেখাতে চাইছে না। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি এবং সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তেহরান এই মুহূর্তে কোনো সমঝোতাকে ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে বিবেচনা করছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি