আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের অবসান টানতে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এই পরিকল্পনায় এক মাসের যুদ্ধবিরতির সময় নির্ধারণ করে ওই সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েকদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ইরানের ‘সঠিক ব্যক্তিদের’ সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে এবং তেহরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে এই দাবিকে ইতোমধ্যে নাকচ করেছে তেহরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ইরানের কাছে একটি ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর খবরে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা সম্পন্ন হবে।
প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবনায় ইরানের জন্য বেশ কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য
১.ইরানকে তাদের বিদ্যমান পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে হবে
২.পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে
৩.নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে হবে
৪.মজুত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় দিতে হবে
৫.নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোসহ গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলতে হবে
৬.আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-কে পূর্ণাঙ্গ তদারকি ও নজরদারির সুযোগ দিতে হবে
৭.লেবাননের হিজবুল্লাহসহ মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে
৮.হরমুজ প্রণালী সর্বদা উন্মুক্ত রাখতে হবে
৯.ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে হবে এবং তা কেবল আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করতে হবে
১০.কূটনৈতিক তৎপরতা ও মধ্যস্থতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাব পাঠানোর প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জ্যারেড কুশনার যুক্ত রয়েছেন। পাকিস্তানের মাধ্যমে এই বার্তা তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।
প্রস্তাবটি মেনে নিলে ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কী ধরনের ছাড় দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, ইসরায়েল মনে করছে এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তারা কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।
তবে প্রস্তাবটি গ্রহণ করবে কি না,তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইতোমধ্যেই কটাক্ষ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন নিজেদের সঙ্গেই চুক্তি করতে চাইছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর শর্তযুক্ত এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা ইরানের জন্য সহজ হবে না। একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় কূটনৈতিক সমাধান এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে। সূত্র: আনন্দবাজার
রিপোর্টার্স২৪/এসসি