| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস: যুক্তরাষ্ট্র

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ২৭, ২০২৬ ইং | ২০:৪২:০৬:অপরাহ্ন  |  ১৯১১২৭ বার পঠিত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস: যুক্তরাষ্ট্র
ছবির ক্যাপশন: ইরানের তেহরানের একটি পার্কে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত চলছে, ২৬ মার্চ, ২০২৬। মাজিদ আসগারিপুর/ওয়ানা (পশ্চিম এশিয়া সংবাদ সংস্থা) রয়টার্সের মাধ্যমে/ফাইল ফটো।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ প্রায় এক মাসে গড়ালেও ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছে,এমনটাই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, ইরানের আরেক-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ধারাবাহিক বোমা হামলায় এগুলোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস অথবা ভূগর্ভস্থ টানেল ও বাঙ্কারের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে। সংবেদনশীল তথ্য হওয়ায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন।

একটি সূত্রের মতে, ইরানের ড্রোন সক্ষমতার ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে,প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এই মূল্যায়ন ইঙ্গিত দেয়, ইরানের বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র হয় ধ্বংস হয়েছে অথবা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। তবুও দেশটির হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং যুদ্ধ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত বা চাপা পড়া অস্ত্রের কিছু অংশ পুনরুদ্ধার করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ তথ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সঙ্গে আংশিকভাবে সাংঘর্ষিক। তিনি বৃহস্পতিবার দাবি করেছিলেন, ইরানের কাছে “খুব কম” ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, অবশিষ্ট অল্পসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্রও বড় হুমকি হতে পারে,বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী রক্ষায় ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে।

এক টেলিভিশন সম্প্রচারিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ধরা যাক আমরা ৯৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছি—তবুও ১ শতাংশই যথেষ্ট, কারণ একটি ক্ষেপণাস্ত্রও একটি বিলিয়ন ডলারের জাহাজ ধ্বংস করতে পারে।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌযান উৎপাদন সংশ্লিষ্ট ৬৬ শতাংশের বেশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে।

ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও সাবেক মেরিন কর্মকর্তা সেথ মোল্টন রয়টার্সের এই তথ্য নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, ইরান যদি কৌশলী হয়, তবে তারা তাদের সব সক্ষমতা একসঙ্গে ব্যবহার করছে না; বরং অপেক্ষা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে,‘এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত অভিযানে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে এবং দেশটির বড় নৌযানের ৯২ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন সক্ষমতার সুনির্দিষ্ট কতটা ধ্বংস হয়েছে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত জানায়নি।

ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যা ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম। এর মধ্যে ৩৩৫টির বেশি লঞ্চার নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, যা মোট সক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা তারা প্রকাশ করেনি এবং শেষ ৩০ শতাংশ সক্ষমতা ধ্বংস করা তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে বলেও স্বীকার করেছে।

এদিকে, ধারাবাহিক হামলার মধ্যেও ইরান তার সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি। বৃহস্পতিবারই দেশটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এখনও উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা ধরে রেখেছে। প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকোল গ্রাজেউস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিছুটা অতিরঞ্জিত করেছে। তার ধারণা, ইরানের প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো কার্যকর রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ইরানের প্রকৃত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নির্ধারণ করা কঠিন, বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ টানেল ও গোপন ঘাঁটিতে থাকা অস্ত্রের কারণে। তিনি বলেন, “আমরা হয়তো কখনোই সঠিক সংখ্যা জানতে পারব না।”

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও একই চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে টানেল নির্মাণে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র পদ্ধতিগতভাবে এসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। রয়টার্স

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪