| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দর্শনার্থীদের পছন্দের তালিকায় ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ে

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০১, ২০২৬ ইং | ১৬:৪৭:৪৮:অপরাহ্ন  |  ৩৬০০৫৫ বার পঠিত
দর্শনার্থীদের পছন্দের তালিকায় ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ে

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একুশ জেলার মোহনার দ্ধার বলে পরিচিত ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। পদ্মা সেতুর বদান্যতায় এশিয়ান হাইওয়ে ও রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতাধীন হওয়ার সুবাদে উপজেলার গোলচত্বর ও মালিগ্রাম মহাসড়ক ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে দিন দিনে গুরুত্ব হয়ে ওঠেছে মিনি ট্যুরিজম এলাকা হিসেবে।

জনগণের অভিমত ভাঙ্গা উপজেলার গোল চত্বরের এক্সপ্রেস ওয়ের সীমানা জুড়ে চতুর্মুখী সৌন্দর্য খচিত সবুজবীথি ও রাতের আলোয়ের শত শত নিয়ন বাতির সৌন্দর্য মোহিত করতে এতটুকুন কমতি নেই দর্শনার্থীকে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পরিচ্ছন্ন এক্সপ্রেস ওয়ের চারপাশের সবকিছু মিলিয়ে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা তথা ভাঙ্গা উপজেলার একটি দর্শনীয় জায়গা হিসেবে পৌঁছে দিয়েছে এক্সপ্রেসওয়ের গুরুত্ব অভিমত ভ্রমণ পিপাসুদের।

বিশেষ করে শহরের বুকচীরে একদিকে রেলপথ অন্য দিকে রেলপথের সীমানার পাশে এক্সপ্রেসওয়ের বিশাল হাইওয়ে সড়ক। দর্শনার্থীদের মাথার উপর সুনীল আকাশ। চোখের সামনে কখনও হুইসেল বাজিয়ে ছুটে চলছে লাইন বেয়ে ট্রেন। ওয়ানওয়েতে ছুটে চলছে দুর পাল্লার গাড়ি। প্রতিনিয়ত এমনি করেই নান্দনিক সৌন্দর্য পিপাসিতদের মানসিক প্রশান্তির সৃষ্টিতে এক্সপ্রেসওয়ের সৌন্দর্য গত কয়েক বছর ধরে মোহিত করে আসছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারী পুরুষ, আবাল বৃদ্ধ ও শিশু কিশোর কিশোরীরা গোল চত্বরের এক্সপ্রেস ওয়েতে জমায়েত করে থাকেন। ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শুরু করে ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহন ভাড়া করে ঈদ আনন্দ কাটাতে এক্সপ্রেস ওয়েতে ছুটে আসেন বিধায় এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরেও সেই ধারাবাহিকতায় কোন ব্যতিক্রম ছিল না। 

ঈদের আনন্দ পরিবার পরিজনের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে এক্সপ্রেস ওয়েতে ঈদের দিন বিকেলে স্থানীয় জনগণ কিছুটা ভীড় জমিয়ে তুললেও ঈদের পরের দিন থেকে জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ভ্রমণ পিপাসুদের ভীড় জমে উঠেছে দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে ভাঙ্গা উপজেলার পৌর সদরের ভাঙ্গা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়ক এক্সপ্রেস ওয়েতে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে এসেছেন নববধূ রিয়ার পরিবার। সকালে রওনা করার পর পদ্মা সেতু হয়ে দুপুরে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে পৌঁছেছেন জানিয়ে বলেন, দিনের আলোয়ে এক্সপ্রেসওয়ের চেয়ে রাতের আঁধারে এক্সপ্রেসওয়ের সড়ক জুড়ে নিয়ন বাতি বাতি জ্বলে ওঠার মুহূর্তের সৌন্দর্য আরও ভালো লেগেছে বলে জানান। তার মতে, সরকার যদি দৃষ্টি রাখেন এক্সপ্রেস ওয়ে ঘিরে ভাঙ্গায় একটি ট্যুরিজম এলাকা হিসেবে ছোট্ট শহরটিকে আলোকিত করতে পারেন বলে অভিমত প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সূত্র মতে, ভাঙ্গা উপজেলায় স্থায়ীভাবে কোন বিনোদন কেন্দ্র বা পার্ক গত ৫৪ বছরে গড়ে ওঠেনি। ১৯৮৭ সালে ভাঙ্গা পৌরসভা গঠন এবং প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নতি হলেও শিশুদের জন্য কোন পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠেনি বিধায় এক্সপ্রেসওয়ে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে ওঠেছে। কাছের অথবা দূরের মানুষ ঈদ পরবর্তী আনন্দের পরিবেশ বিবেচনায় নির্ঝঞ্ঝাট ও নিরাপত্তার ঘাটতি না থাকায় এক্সপ্রেস ওয়ে দেখার জন্য প্রতিনিয়ত ছুটে আসেন। 

তাদের মতে, সাধারণত ঈদের সময় এক্সপ্রেসওয়েতে দর্শনার্থীদের বেশী চাপ সৃষ্টি হয়ে থাকে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে প্রায় দু'কিলোমিটার জুড়ে মানুষের ঢল। দূর থেকে যে কেউ মানুষের ঢল দেখে উপলব্ধি করতে পারেন ভাঙ্গা উপজেলার বিশেষ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এক্সপ্রেস ওয়ে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে জনতার মিলন মেলার। এযেন বিনিসুতোয় শত থেকে হাজারো নারী পুরুষ ও শিশু আবাল বৃদ্ধ বনিতাকে আবদ্ধ করেছে এক্সপ্রেস ওয়ের ও মহাসড়কে নান্দনিক সৌন্দর্য্যে। সেই মানুষের একধরণের সেবা করে চলছে শতাধিক বেকার যুবক পরিবারের সংসার। কারণ এক্সপ্রেস ওয়ের আশপাশের কোথাও কোন দোকান ঘর নেই। ভ্রাম্যমাণভাবে চা, পানি ও কফি থেকে শুরু করে হরেকরকমের খেলনা বিক্রি করেন শিক্ষিত ফেরিওয়ালাদের পাশাপাশি স্বশিক্ষিতরা। যে আয়ের অর্থ পর্যন্ত থেকে পরিচালিত করেন তাদের সংসার। সেই দিকটা বিবেচনায় নিলে এক্সপ্রেসওয়ে ঘিরে সৃষ্ট হয়েছে বেকার যুবকদের সাময়িক কর্মসংস্থান।

ফেরিওয়ালা আবুল হাসান জানান, তিনি একজন শিক্ষিত যুবক। তারপরও সংসার চালাতে ফেরিওয়ালা সাজতে কোন দ্বিধা নেই। হালাল টাকা আয়ের উৎস হিসেবে তিনি ফেরিওয়ালা হয়ে মানব সেবা করতে পারছেন বলে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন।

স্থানীয় সংবাদ কর্মী শাহাদাত হোসেন জানান, যেহেতু ভাঙ্গায় কোন পর্যটন এলাকা নেই। সেহেতু ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ঘিরে এখানে একটি পর্যটক কেন্দ্র করে উঠতে পারে। এতে করে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য একটি জায়গা তৈরি হবে আবার অর্থনৈতিক উন্নয়নও আসবে বলে তিনি মনে করেন।

ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম বলেন,এক্সপ্রেসওয়ে দেখার জন্য দূর দুরান্ত থেকে লোকজনই আসছেন। এটা একটি মিনি পর্যটক কেন্দ্রের মতন হয়ে ওঠেছে। অর্থনৈতিকভাবেও কিছুটা গুরুত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার বেকার যুবকেরা এক্সপ্রেসওয়ে এলাকার আগন্তুকদের কাছে পানীয়সহ বিভিন্ন রকমের খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করে নিজের ও পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আসছেন। ফরিদপুর -৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল ভাঙ্গা উপজেলা ও পৌর এলাকা মডেল শহরের প্রতিস্থাপন করার লক্ষ্যে কাজ করছেন বলেও তিনি আরও জানান। 

ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ভাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র হাইওয়ে এক্সপ্রেস  অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিধায় পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিনিয়ত সজাগ দৃষ্টি রেখে কাজ করছেন। বিশেষ করে ঈদের পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে এক্সপ্রেসওয়ে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিনোদন প্রেমী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে পুলিশ সদস্যরা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। থানার পুলিশের পাশাপাশি যে কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সড়কে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা মাঠে সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি জানান। 

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪