ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তার শর্ত না মানলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে নতুন করে হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
রোববার ট্রাম্প জানান, মার্কিন প্রতিনিধিদল সোমবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানে পৌঁছাবে। এতে করে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে আলোচনায় অগ্রগতি অর্জনের জন্য হাতে খুব অল্প সময় থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আমরা খুবই ন্যায্য ও যৌক্তিক একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছি। তারা যদি এটি গ্রহণ না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেবে।
তবে নতুন আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। দেশটির বার্তা সংস্থা জানায়, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকায় প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এছাড়া ট্রাম্পের দূত স্টিভ কুশনার এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ও এতে অংশ নেবেন।
এর আগে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানান, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
রোববারও হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এর একদিন আগে এই জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করা দুটি জাহাজে ইরান গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই ইরান নিজেদের জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজের জন্য প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। যদিও শুক্রবার এটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল তেহরান, পরে শনিবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।ট্রাম্প দাবি করেন, প্রণালিতে জাহাজে গুলি চালানো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল।
চলমান যুদ্ধ এখন অষ্টম সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়। এর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম বেড়েছে এবং বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শনিবার প্রণালি পুনরায় খোলার ঘোষণায় তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও, তা কার্যকর না হওয়ায় সোমবার বাজার আবার অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
আলোচনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের আগমনের আগে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও যানবাহন বহন করে দুটি বড় মার্কিন সি-১৭ কার্গো বিমান নুর খান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গণপরিবহন ও ভারী যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। এছাড়া যেখানে আগের দফার আলোচনা হয়েছিল, সেই হোটেলের আশপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতি না হলে নতুন করে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে দুই পক্ষের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেয়, আর ইরান ৩ থেকে ৫ বছরের প্রস্তাব দেয়।এদিকে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বুধবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি