ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: লেবাননের ভেতরে নিজেদের নতুন মোতায়েনকৃত অবস্থানের একটি মানচিত্র প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী। এতে দেখা গেছে, দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী বহু গ্রাম এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।এই পদক্ষেপটি নেওয়া হলো ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির কয়েকদিন পর।
প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স লাইন’ লেবাননের ভেতরে সীমান্ত থেকে প্রায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই এলাকায় একটি তথাকথিত ‘বাফার জোন’ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস এবং উত্তর ইসরায়েলের বসতিগুলোকে সরাসরি হুমকি থেকে রক্ষা করতে একযোগে পাঁচটি ডিভিশন ও নৌবাহিনী কাজ করছে।এ বিষয়ে লেবানন সরকার বা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েল দাবি করেছে, সীমান্তবর্তী যেসব গ্রাম হিজবুল্লাহ ব্যবহার করছিল, সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এতে বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষের ঘরে ফেরার সুযোগ থাকবে কি না,এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি তারা।
লেবাননের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, কিছু এলাকায় মানুষ প্রবেশ করতে পারলেও অধিকাংশ গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী এখনো প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, সীমান্তবর্তী যেসব স্থাপনা হিজবুল্লাহ ব্যবহার করেছে বা সেনাদের জন্য হুমকি হতে পারে, সেগুলো ধ্বংস করা হবে। সন্দেহভাজন বিস্ফোরক পুঁতে রাখা সড়কও ধ্বংস করা হবে।
গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালানোর পর লেবানন সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ইসরায়েল পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সংঘাতে ২ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭৭ জন শিশু। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১২ লাখের বেশি মানুষ।অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর হামলায় তাদের দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ১৫ জন সেনা লেবাননে নিহত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মানচিত্র প্রকাশের মাধ্যমে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতির পরও পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি