ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কিছু মারিজুয়ানা/গাঁজা পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করে এবং এটিকে কম ঝুঁকিপূর্ণ মাদক হিসেবে পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া দ্রুততর করার ঘোষণা দিয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে এটিকে দেশটির মাদক নীতিতে অন্যতম বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, FDA অনুমোদিত মারিজুয়ানা পণ্য এবং রাজ্য পর্যায়ে নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা মারিজুয়ানাকে এখন থেকে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে এগুলোকে উচ্চ মাত্রার আসক্তি সৃষ্টিকারী মাদক শ্রেণি থেকে সরিয়ে কম বা মাঝারি মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানিয়েছেন, মারিজুয়ানাকে আরও বিস্তৃতভাবে পুনর্বিন্যাস করে তফসিল I = তফসিল III থেকে (Schedule I থেকে Schedule III ) শ্রেণিতে আনার জন্য দ্রুত শুনানি শুরু করা হবে। বর্তমানে এটি হেরোইন ও এলএসডির মতো কঠোর নিষিদ্ধ মাদকের সঙ্গে একই শ্রেণিতে ছিল।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মারিজুয়ানা এখন কেটামিন ও টেস্টোস্টেরনের মতো নিয়ন্ত্রিত কিন্তু তুলনামূলক কম ক্ষতিকর ওষুধের তালিকায় স্থান পেতে পারে।
নীতিগত এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বর্ধনশীল ক্যানাবিস শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। করের চাপ কমবে, গবেষণার সুযোগ বাড়বে এবং অর্থায়ন পাওয়া সহজ হবে।
তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, এই সিদ্ধান্ত মারিজুয়ানাকে দেশব্যাপী বৈধ করছে না। এখনো ফেডারেল পর্যায়ে এর ব্যবহার ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা আরও বিস্তৃত হবে, যা রোগীদের উন্নত চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান করবে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মাদক নীতিতে শিথিলতার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে বিচার বিভাগ সেই নির্দেশনার আলোকে এই উদ্যোগ নেয়।
এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ক্যানাবিস কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ক্যানোপি গ্রোথ, টিলরে ব্র্যান্ডসসহ বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ার ৬ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক রাজ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্নভাবে মারিজুয়ানা বৈধ হলেও ফেডারেল পর্যায়ে এটি এখনো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত সেই ব্যবধান কমাতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, আগামী ২৯ জুন থেকে এ বিষয়ে বিশেষ শুনানি শুরু হবে, যেখানে বিশেষজ্ঞদের মতামত ও প্রমাণ বিবেচনা করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি