রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি-র ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসনের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন আহত শ্রমিকরা। অনেকের জীবন থমকে গেছে শারীরিক পঙ্গুত্ব ও আর্থিক অনিশ্চয়তায়।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৫ জন শ্রমিক। আহত হন প্রায় দুই হাজারের বেশি শ্রমিক। ভয়াবহ ওই ঘটনার পর দায়ের হওয়া একাধিক মামলা দীর্ঘ সময়েও নিষ্পত্তি হয়নি।
আহতদের একজন শিলা আক্তার বলেন, মেরুদণ্ডের আঘাতে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। সীমিত সহায়তা পেলেও তা চিকিৎসা ও জীবিকার জন্য যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, দীর্ঘ বছর পার হলেও প্রাপ্ত সহায়তা তাদের জীবনের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আরেক ভুক্তভোগী সাদ্দাম হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় তিনি একটি হাত হারিয়েছেন এবং কর্মজীবন থেমে গেছে। মাস্টার্স পাস করেও দীর্ঘদিন ধরে বেকার অবস্থায় আছেন তিনি। তার দাবি, স্থায়ী কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন ছাড়া তাদের জীবন সংকট কাটবে না।
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয় এবং নিয়মিত সহায়তার ধারাবাহিকতাও নেই। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও ভাতা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানান তারা।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, শুধু মামলা নয়, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কার্যকর ক্ষতিপূরণ, উন্নত চিকিৎসা এবং স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। তাদের দাবি, এক জীবনের আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এখন সময়ের দাবি।
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি-কে ঘিরে দায়ের করা একাধিক মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। তবে কবে নাগাদ এসব মামলার নিষ্পত্তি হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম