| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রূপপুরে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড শুরু মঙ্গলবার

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ইং | ০৩:২০:৩৬:পূর্বাহ্ন  |  ৪৮৫ বার পঠিত
রূপপুরে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড শুরু মঙ্গলবার

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের’ (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোড শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল)। এর মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন যুগে প্রবেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুয়েল লোড কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরেনিয়াম লোডিং প্রক্রিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ধাপ। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত ২১ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। এরপর ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে চুল্লিতে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া শুরু করা হয়, যা থেকে উৎপন্ন তাপ শক্তি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে।

পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম-২৩৫ বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করে ছোট ছোট পেলেট আকারে তৈরি করা হয়। এসব পেলেট ধাতব টিউবে সংযোজন করে তৈরি হয় ফুয়েল রড এবং একাধিক রড মিলিয়ে গঠিত হয় ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। রূপপুরের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি সংযোজন করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ফুয়েল লোড সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে কমিশনিং কার্যক্রম শেষ করে আগামী জুলাইয়ের শেষ নাগাদ বা আগস্টের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বা ২০২৭ সালের শুরুতে।

রাশিয়ার প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পে দুটি ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ এবং নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৫ সালে। নির্মাণ শেষে কেন্দ্রটি পরিচালনা করবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ (এনপিসিবিএল)। প্রাথমিক পর্যায়ে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হলেও ধীরে ধীরে বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসসহ পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং পুরো প্রকল্প ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪