স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর নিউমার্কেট থানা এলাকার বটতলা শহীদ শাহনেওয়াজ হলের সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে খন্দকার নঈম আহমেদ টিটন (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, নিহত খন্দকার নঈম আহমেদ টিটন হচ্ছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন। তিনি হাজারীবাগের ঝিগাতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবার নাম কেএম ফখর উদ্দিন।
নিহত টিটনকে হাসপাতালে নিয়ে যান পথচারী মেজবাহ। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ওই ব্যক্তি বটতলার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন লোক এসে বেশ কয়েকটি গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে আমি তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে আনার পর চিকিৎসক জানান, তিনি আর বেঁচে নেই।’
মেজবাহ আরও জানান, ওই ব্যক্তির মাথায় তিনটি, হাতের বাহুতে একটি এবং বগলের নিচেসহ মোট পাঁচটি গুলি লাগে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক। তিনি জানান, ওই ব্যক্তির মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে তার নাম ছিল। পুলিশের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যকার অন্তর্কোন্দলে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্লা শাহাদাত বলেন, রাত পৌনে আটটার দিকে মোটরসাইকেলে এসে কয়েকজন দুর্বৃত্ত এক যুবককে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। খুব কাছ থেকে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচ থেকে ছয়টি গুলি করে। এরপর দ্রুততম সময়ে পালিয়ে যায় তারা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টা ২৭ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর বেলা পৌনে ১১টায় পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সামনে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় পুলিশের একসময়ের তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তারিক সাঈফ মামুনকে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যার নেপথ্যে ছিলেন নাঈম আহমেদ টিটনের ভগ্নিপতি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন।
পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে সন্ত্রাসী জগতে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন এবং ধীরে ধীরে অপরাধ জগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিটন তার অপরাধ কার্যক্রম বিস্তৃত করেন। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দেন। টিটন অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন এবং তার নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা।
২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব