ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ ‘সম্ভবত’ আবারও শুরু হতে যাচ্ছে বলে মনে করছে ইরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ ‘সম্ভবত’ আবার শুরু হবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র কোনো চুক্তি বা সমঝোতার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়, এটি প্রমাণিত।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক সদর দপ্তরের উপপ্রধান মোহাম্মদ জাফর আসাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য মূলত মিডিয়া-নির্ভর; তাদের লক্ষ্য তেলের দামের পতন ঠেকানো এবং দ্বিতীয়ত নিজেদের সৃষ্ট জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসা।
যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নতুন দুঃসাহসিকতা বা বোকামির জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অনেক শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া কয়েক হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার আহত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক হামলার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ওই অঞ্চলে এবং দখলকৃত ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।
টানা প্রায় ছয় সপ্তাহ যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুদ্ধবিরতির মধ্যে বাকযুদ্ধ হলেও হামলা থেকে বিরত থাকে দুই পক্ষ।
পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল শান্তি চুক্তির উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
এরপর ইরান সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা সংলাপের জন্য একটি তিন ধাপের প্রস্তাব দেয়। তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের পর ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন আরেকটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ওই প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব