রিপোর্টার্স ডেস্ক: চা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকাল শুরু হোক কিংবা বিকেলের ক্লান্তি দূর; এক কাপ চা যেন এক ধরনের প্রশান্তি। আর সেই চায়ের সঙ্গে বিস্কুট বা রস্ক না থাকলে যেন আড্ডাই জমে না। কিন্তু এই ছোট্ট অভ্যাসই অজান্তে বাড়িয়ে দিতে পারে রক্তে শর্করার মাত্রা। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ের সঙ্গে খাওয়া বিস্কুট ও রস্ক দেখতে নিরীহ মনে হলেও এগুলোতে থাকে পরিশোধিত ময়দা, অতিরিক্ত চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিস্কুট না রস্ক, কোনটা কম ক্ষতিকর?
এন্ডোক্রিনোলজিস্টদের মতে, বিস্কুটের তুলনায় সাধারণ রস্ক কিছুটা কম ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এটি তুলনামূলকভাবে শুকনো এবং এতে চর্বির পরিমাণ কিছুটা কম থাকে। তবে পার্থক্যটা খুব বেশি নয়। দুটোই মূলত ময়দা দিয়ে তৈরি এবং দুটোই দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়াতে সক্ষম।
তাই একসঙ্গে অনেকগুলো খাওয়ার বদলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চার-পাঁচটি বিস্কুট খাওয়ার বদলে একটি ছোট টুকরো খাওয়াই বেশি উপকারী।
ময়দা ও চিনির সমস্যা কোথায়?
বেশিভাগ বাণিজ্যিক বিস্কুট ও রস্ক তৈরি হয় ময়দা দিয়ে, যা শরীরে খুব দ্রুত ভেঙে যায়। ফলে হঠাৎ করেই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যদি অতিরিক্ত চিনি যোগ হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
এই দ্রুত বৃদ্ধি আবার অল্প সময়ের মধ্যেই কমে যায়, ফলে আবার ক্ষুধা লাগে এবং বারবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এতে রক্তে শর্করার ওঠানামা অস্থির হয়ে পড়ে।
লুকানো চর্বির ঝুঁকি
বিস্কুট ও রস্কে থাকা চর্বি অনেক সময় ‘খালি ক্যালোরি’ মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়াতে পারে। অর্থাৎ শরীর তখন গ্লুকোজ ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ নানা মেটাবলিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
এমনকি ‘ডাইজেস্টিভ’ বা ‘লাইট’ নামে বাজারজাত বিস্কুটও অনেক ক্ষেত্রে একই ধরনের ময়দা ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি বহন করে।
তাহলে বিকল্প কী?
চায়ের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর কিছু খেতে চাইলে প্রোটিন, ফাইবার বা ভালো চর্বি রয়েছে এমন খাবার বেছে নেওয়াই ভালো। যেমন: ভাজা ছোলা, চিনাবাদাম, মাখানা, মাল্টিগ্রেইন টোস্টে পিনাট বাটার এবং সেদ্ধ ডিম। এসব খাবার ধীরে হজম হয়, ফলে রক্তে শর্করা হঠাৎ বাড়ে না এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে।
চায়ের চিনিও কমাতে হবে
অনেক সময় আমরা শুধু বিস্কুটের দোষ দিই, কিন্তু চায়ে অতিরিক্ত চিনি থাকলেও সেটি সমানভাবে ক্ষতিকর। তাই চায়ে চিনির পরিমাণ কমানোও খুবই জরুরি।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু