পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ ও ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যের রাজনীতিতে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে চন্দ্রনাথের লাশ দেখতে মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে পাশে নিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, “বেশ কয়েক দিন ধরে নজরদারির পর পরিকল্পনামাফিক ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে।”
শুভেন্দু জানান, মৃতের পরিবার ও আহতদের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নেবে বিজেপি। তার দাবি, এই হত্যার সঙ্গে রাজনৈতিক যোগ থাকতে পারে, যদিও তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না তিনি। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজের তথ্যও প্রকাশ্যে না আনার পক্ষেই মত দেন তিনি। তদন্তে পুলিশের ওপর আস্থা রাখার কথাও জানান শুভেন্দু।
এই ঘটনার পর বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের আইন হাতে না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন শুভেন্দু। শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে “প্রতিহিংসার রাজনীতি” চলছে।
এদিকে চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাজ্য পুলিশ। এই দলে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির কর্তারাও রয়েছেন। যদিও কমিটিতে মোট কতজন সদস্য রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ডিজি প্রবীণ কুমার। এর আগে বুধবার রাতেই মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে যান রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। তদন্তের স্বার্থে বেশি কিছু প্রকাশ্যে বলতে চাননি তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় ব্যবহৃত একটি চারচাকা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট অনুযায়ী গাড়িটি শিলিগুড়ির হলেও সেটি ভুয়া বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে ব্যবহৃত গুলির খোলও।
সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে বিএসএফ। তদন্তকারীদের অনুমান, হামলাকারীরা আত্মগোপন করে সীমান্ত পার করার চেষ্টা করতে পারে।
গত বুধবার (৬ মে) রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি লক্ষ্য করে দুষ্কৃতকারীরা গুলি চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি বাইক ও একটি গাড়ি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা প্রথমে চন্দ্রনাথের গাড়ির পিছু নেয়, পরে রাস্তা আটকিয়ে অন্তত ছয় রাউন্ড গুলি চালায়। গাড়ির কাঁচ ভেদ করে তিনটি গুলি চন্দ্রনাথের শরীরে লাগে—দুটি বুকে ও একটি পেটে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন গাড়ির চালকও। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কলকাতার অ্যাপলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জ্ঞান ফিরলে তার সঙ্গে কথা বলবে পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব