সিনিয়র রিপোর্টার : সেনা সদরের মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের (স্টাফ কর্নেল) কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা এখনো সরকারের পক্ষ থেকে অফিশিয়ালি কোনো নির্দেশনা প্রাপ্ত হইনি। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নির্বাচনসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করব।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস-এ-তে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মব ভায়োলেন্স, জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী যেকোনো পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং করবে এবং আমরা আগের তুলনায় মব ভায়োলেন্স অনেকাংশে কমিয়ে নিয়ে এসেছি।
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অনেক মানুষকে ‘পুশ ইন’ করা হচ্ছে প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড সতর্ক আছে। সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সেনাবাহিনী অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। বিজিবি ও কোস্টগার্ড বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদুল আজহার আগে ও পরে দুই সপ্তাহে সেনাবাহিনী বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ১ হাজার ২৫৫টি যানবাহন থেকে ৩৫ লাখ ২৬ হাজার ২৩৩ টাকা যাত্রীদের মাঝে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে ১৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং র্যাকারের মাধ্যমে ৯টি যানবাহন উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, ঈদুল আজহায় চাঁদাবাজি/অবৈধ স্থাপনা সংক্রান্ত কারণে ৭২ জনকে গ্রেপ্তার এবং ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৪৩০ টাকা জব্দ করা হয়। সর্বোপরি, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারে সড়ক দুর্ঘটনা, মৃত্যু ও গুরুতর আহতের হার অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের একটি প্রতিবেদনে আরাকান আর্মির উত্থানে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে শুরু করেছে, এ বিষয়ে সেনা সদরের কোনো বক্তব্য আছে কি না এমন প্রশ্নে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য নেই।’
শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনসহ একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কোনো তালিকা করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী বা যেকোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কক্সবাজার জেলায় এফডিএমএন ক্যাম্প এলাকার নিরাপত্তা বিধান করার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করে যাচ্ছে।
ব্রিফিংয়ের বলা হয়, গত তিন সপ্তাহে ৫৬টি অবৈধ অস্ত্র ও ৯৯০ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। আর গত বছরের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৬৬৭টি অবৈধ অস্ত্র ও ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৫৪ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ১৫ হাজার ২৬২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। এর মধ্যে কিশোর গ্যাং, তালিকাভুক্ত অপরাধী, ডাকাতসহ অন্যান্য অপরাধী রয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান চলমান আছে জানিয়ে ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গত তিন সপ্তাহে ৪৫২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫ হাজার ৪৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।