| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

প্রাচীন রূপ নেই কাপাসিয়ার ৬শ বছরের ‌পুরনো 'শাহী মসজিদের'

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২০, ২০২৫ ইং | ১৩:৫৫:০৯:অপরাহ্ন  |  ১৬৭৭৯৩২ বার পঠিত
প্রাচীন রূপ নেই কাপাসিয়ার ৬শ বছরের ‌পুরনো 'শাহী মসজিদের'
ছবির ক্যাপশন: প্রাচীন রূপ নেই কাপাসিয়ার ৬শ বছরের ‌পুরনো 'শাহী মসজিদের'

এ এইচ সবুজ গাজীপুর : সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার ভোর থেকেই মানুষের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে একটি মসজিদ। এখানে নাকি মানত করলে তা পূরণ হয় বলে লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে। এর ফলে জুমা'র দিনে অনেকেই হাঁস-মুরগি,গরু-ছাগল-ভেড়া দান করেন এই মসজিদটিতে। 

এছাড়াও নগদ টাকা তো আছেই। কাপাসিয়া উপজেলার গন্ডি ছাড়িয়ে আশপাশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে ৬০০ বছরের পুরাতন মোঘল আমলে নির্মিত 'শাহী মসজিদ' দেখতে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সুলতানপুরে অবস্থিত ৬০০ বছরের পুরাতন এই 'শাহী মসজিদ। মসজিদটি দেখতে ও নামাজ পড়তে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিসহ অন্যান্য ধর্মের লোকজন। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় মোঘল আমলের অন্যতম এই নিদর্শনটি তার নিজস্ব রূপ হারিয়ে ফেলেছে। মসজিদটিতে আধুনিক রূপ দিতে গিয়ে ঢাকা পড়ে গেছে প্রাচীন নিদর্শনের মূল গম্বুজটি। 

সুলতানপুর দরগাপাড়া শাহী মসজিদটি কাপাসিয়া উপজেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে টোক সুলতানপুর গ্রামে অবস্থিত।

লোকমুখে প্রচলিত আছে, ইসলাম প্রচারের জন্য এদেশে এসেছিলেন ৩৬০ জন আউলিয়া। যাদের মধ্যে ১৩১তম ছিলেন শাহ্ সুলতান। তার নামেই এই গ্রামের নাম হয় সুলতানপুর। 

ঐতিহাসিক তথ্যমতে, মোঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে ঈশা খাঁ ও মানসিংহের মধ্যকার যুদ্ধের সময় নির্মাণ করা হয় এই শাহী মসজিদ। মসজিদের গায়ে অস্পষ্টভাবে খোদাই করে লেখা রয়েছে ১৩৪৬। এই মসজিদটি ১৯৮৭ সালে সম্প্রসারণ করা হয়। মসজিদটিতে একসঙ্গে পাঁচ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

এই মসজিদের সঙ্গে আছে সুলতানিয়া হাফিজিয়া এতিমখানা মাদরাসা। এই মাদরাসায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে বিনামূল্যে। শুধু তাই নয়, মসজিদের পাশে একটি জায়গায় কবরস্থান তৈরি হয়েছে হতদরিদ্র মানুষের জন্য।

মসজিদটি দেখতে এবং নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা জানান, মোগল আমলের তৈরি মসজিদটি আমাদের দেশের অন্যতম একটি ঐতিহ্য। কিন্তু সেই ঐতিহ্য এখন আধুনিক স্থাপনার কারণে দেখা যায় না। মানুষ যে কারণে মূলত দূর-দূরান্ত থেকে আসেন তার কিছুই দেখা যায় না৷ 

লোকমুখে প্রচলিত এই মসজিদে শুক্রবার (২০ জুন) জুমা'র দিনে অনেকেই হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল দান করেন। তবে ভেতরে প্রবেশ করে মূল শাহী মসজিদের অংশটুকু দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

এ বিষয়ে মসজিদের সভাপতি মাহমুদুল আলম বলেন, মসজিদটি অনেক ছোট ছিল। সেখানে নামাজ পড়তে পারতেন ৪০/৪৫ জন। বর্তমানে ৫-৬ হাজার মুসল্লির আগমন ঘটে। যার কারণে মসজিদটি সংস্কার করা হয়েছে। তবে আমরা মসজিদের মূল ভবনটি ঠিক রেখেছি। মূল ভবনের বিভিন্ন যায়গায় প্লাস্টার খুলে পড়ে যাচ্ছিল। সংস্কার না করলে ভেঙে যেতো।

তিনি আরো বলেন, সপ্তাহের প্রতি শুক্রবারে জুমার নামাজ আদায়ের পর খোলা হয় ৩৫ থেকে ৩৭ টি দান বাক্স। যা থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা পাওয়া যায়। কখনো কখনো কম-বেশি হয়। বিভিন্ন মানুষের দান-খয়রাতের টাকা দিয়েই মসজিদ-মাদ্রাসা এবং কবরস্থান সম্প্রসারণের কাজ করা হয়।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪