| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

এবার পাকিস্তানের ‘রেহমান গলি’ হয়ে গেল ‘রাম গলি’

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১৯, ২০২৬ ইং | ২০:৪৬:৩০:অপরাহ্ন  |  ৯৪৫ বার পঠিত
এবার পাকিস্তানের ‘রেহমান গলি’ হয়ে গেল ‘রাম গলি’

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বহু রাস্তা ও স্থাপনার ইসলামী নাম বদলে হিন্দু নাম রাখার প্রচলন রয়েছে। তবে এর ঠিক উল্টোটা দেখা গেল পাকিস্তানে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোরের বিভিন্ন রাস্তা ও স্থাপনার ইসলামী নাম বদলে দেশভাগের আগের পুরোনো হিন্দু, শিখ, জৈন এবং ঔপনিবেশিক নাম ফিরিয়ে এনেছে পাঞ্জাব সরকার। ইতোমধ্যে লাহোরের ইসলামপুরা এলাকার নাম বদলে হয়েছে কৃষ্ণ নগর, বাবরি মসজিদ চক হয়েছে জৈন মন্দির চক এবং রেহমান গলির নামকরণ করা হয়েছে রাম গলি। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত দুই মাসে অন্তত নয়টি স্থানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে এবং আরও অনেকগুলো এলাকা ও রাস্তার পুরোনো নাম ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে।  

পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে এমন এলাকার নামের তালিকা—সুন্নাত নগর হচ্ছে সান্ত নগর, মাওলানা জাফর আলী খান চক হচ্ছে লক্ষ্মী চক, মুস্তাফাবাদ হচ্ছে ধরমপুরা, স্যার আগা খান চক হচ্ছে ডেভিস রোড, আল্লামা ইকবাল রোড হচ্ছে জেল রোড, ফাতিমা জিন্নাহ রোড হচ্ছে কুইন্স রোড, বাগ-ই-জিন্নাহ হচ্ছে লরেন্স গার্ডেনস, ইসলামপুরা হচ্ছে কৃষ্ণ নগর, হামিদ নিজামী রোড হচ্ছে টেম্পল স্ট্রিট, নিস্তার রোড হচ্ছে ব্র্যান্ড্রেথ রোড, রেহমান গালি হচ্ছে রাম গালি, বাবরি মসজিদ চক হচ্ছে জৈন মন্দির রোড, গাজিয়াবাদ হচ্ছে কুমহারপুরা, জিলানি রোড হচ্ছে আউটফল রোড, শাহরাহ-ই-আব্দুল হামিদ বিন বাদিস হচ্ছে এমপ্রেস রোড।

নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের নেপথ্যে কারা

এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকারের ‘লাহোর হেরিটেজ এরিয়া রিভাইভাল’ (এলএইচএআর) নামে একটি বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ, যার লক্ষ্য হলো দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানীকে তার দেশভাগের পূর্ববর্তী ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনা। এটি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ৫০ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি মূল্যের একটি উচ্চাভিলাষী স্বপ্নের প্রকল্প, যার উদ্দেশ্য হলো কয়েক দশকের অবহেলা, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং আদর্শগত বিকৃতির পর শহরটির স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক কাঠামো পুনরুদ্ধার করা।

২০২৫ সালে নওয়াজ শরিফের কন্যা ও পাঞ্জাব প্রদেশের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ এই প্রকল্পটি শুরু করেন।

মরিয়ম নওয়াজের যুক্তি হলো, ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো পাকিস্তানেরও উচিত তার শহরগুলোর ঐতিহাসিক ঐতিহ্য মুছে ফেলার পরিবর্তে সংরক্ষণ করা। এই উদ্যোগের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো ঐতিহ্য পর্যটনকে উৎসাহিত করা, যার মাধ্যমে সরকারের জন্য রাজস্ব আয় হবে।

এদিকে লাহোরের বর্তমান মিন্টো পার্কে (গ্রেটার ইকবাল পার্ক) তিনটি ক্রিকেট মাঠ এবং একটি ঐতিহ্যবাহী কুস্তির আখড়া পুননিমার্ণের প্রস্তাবও দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। 

নওয়াজ শরিফের ভাই ও পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ২০১৫ সালে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন একটি নগর উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনটি ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ, ক্রিকেট ক্লাবের অধীনস্থ এলাকা এবং একটি কুস্তির আখড়া ভেঙে ফেলার কারণে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। 

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হকের মতো বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার মিন্টো পার্কের এই ক্রিকেট ক্লাবগুলোতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এমনকি দেশভাগের আগে ভারতীয় ক্রিকেটার লালা অমরনাথও এই ক্লাবগুলোতে প্রশিক্ষণ নিতে যেতেন। ১৯৭৮ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে লাহোর সফরে গিয়ে অমরনাথ মিন্টো পার্কে ক্রিসেন্ট ক্রিকেট ক্লাবের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন, যে ক্লাবের হয়ে তিনি দেশভাগের আগ পর্যন্ত খেলতেন।

এছাড়াও মিন্টো পার্কের ভেঙে ফেলা কুস্তি আখড়াটিতে একসময় গুঙ্গা পালোয়ান, ইমাম বখশ এবং গামা পালোয়ানের মতো প্রবীণ কুস্তিগীরদের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এছাড়াও দেশভাগের আগে হিন্দুরা মিন্টো পার্কে দশেরা উৎসব পালন করতেন। সূত্র: এনডিটিভি

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪