নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: মাত্র ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের বন্দর, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ উপজেলায় পৃথক তিনটি ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। মাদক সেবনে বাধা, মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধ এবং চাঁদা নিয়ে সংঘর্ষের জেরে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলার দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হন অটোরিকশাচালক মো. মমিন। তিনি নাজিরপুর এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় লাইনম্যান শাহিন প্রথমে টাকা নেওয়ার পর আবারও চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন মমিন। পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর এলাকাবাসী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। অভিযুক্ত শাহিন পলাতক রয়েছেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচগাঁও চরপাড়া এলাকায় ভেকু দিয়ে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি (৪০) নিহত হন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রমজান আলীসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।
এর আগে মঙ্গলবার বন্দরের মদনগঞ্জ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. জুয়েল হোসেন (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় সড়কের ওপর অটোরিকশাচালক আমিনুল ইসলামকে (৪৮) গলা কেটে আহত করে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রীবেশে গাড়িতে উঠে হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
টানা এসব হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন