রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শুধু পশু কোরবানি করলেই ঈদুল আজহার প্রকৃত শিক্ষা বাস্তবায়িত হয় না, বরং মানুষের অন্তরের পশুত্ব, লোভ, হিংসা ও অন্যায় প্রবণতাকেও কোরবানি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে খুলনার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোরবানির শিক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মধ্যেই এর প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। মানুষকে তার ভেতরের পশুত্বকে কোরবানি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার, সততা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ছাড়া প্রকৃত শান্তি সম্ভব নয়। এজন্য সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন,দেশ ও সমাজকে কল্যাণের পথে এগিয়ে নিতে হলে ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোরবানির মূল শিক্ষা আমাদের সেই ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির দিকেই আহ্বান জানায়।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে খুলনায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সকাল সাড়ে ৭টায় খুলনা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় প্রধান ঈদ জামাত। জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই মুসল্লিরা ঈদগাহে জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারা।
খুলনা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডসহ চার শতাধিক স্থানে এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় এক হাজারেরও বেশি স্থানে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়। এসব স্থানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে অনেকে বাড়িতে ফিরে কোরবানির পশু জবাই শুরু করেন, যা ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষঙ্গ।
ঈদের দিন সকাল থেকেই খুলনা শহর ও আশপাশের এলাকায় ছিল উৎসবের আমেজ। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং কোরবানির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করেন নগরবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখেই ঈদের মূল শিক্ষা—ত্যাগ, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধিকে জীবনে ধারণ করার চেষ্টা করেছেন অনেক মুসল্লি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম