| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ট্রাম্পের যে ২ শর্তে আটকে আছে শান্তিচুক্তি

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ৩০, ২০২৬ ইং | ১১:০৭:০৫:পূর্বাহ্ন  |  ১৬৯৪ বার পঠিত
ট্রাম্পের যে ২ শর্তে আটকে আছে শান্তিচুক্তি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান মিলছে না। কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকলেও শান্তিচুক্তি এখনও অনিশ্চয়তায়। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে একমত হতে পারেনি তেহরান, ফলে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথও আটকে রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে প্রায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। বর্তমানে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানো এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

শুক্রবার ট্রাম্প জানান, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবগুলো নিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসের নিরাপদ কক্ষ ‘সিচুয়েশন রুমে’ বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ইরান তাদের প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, যাতে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায়।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ট্রাম্প প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে ওই বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে এমন চুক্তিতেই সম্মতি দেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা হয়নি।

শান্তিচুক্তির জন্য ট্রাম্প যে দুটি প্রধান শর্ত দিয়েছেন, তার মধ্যে প্রথমটি হলো হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে এবং সেখানে যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতি পুনর্বহাল করতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কোনো অবস্থাতেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ রাখতে পারবে না।

তবে তেহরান এখন পর্যন্ত এই দুই শর্তের কোনোটিতেই সম্মতি দেয়নি।

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করতে পারবে না এ বিষয়ে তাদের সম্মত হতেই হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কোনো ধরনের শুল্ক আদায় করা যাবে না।”

তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়োজনে ইরানের মাটিতে থাকা পারমাণবিক উপকরণও উদ্ধার করবে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘যুদ্ধের পর বিজয় দেখানোর রাজনৈতিক প্রচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ কেবল ইরান এবং ওমানের অধীনেই থাকা উচিত। একই সঙ্গে তারা শর্ত দিয়েছে, হরমুজে ইরানি জাহাজের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে না।

অন্যদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী থেকে নিয়ন্ত্রণ কমাতে সম্মত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও ধাপে ধাপে ইরানি জাহাজের ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল করার বিষয়ে বিবেচনা করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে শান্তিচুক্তির স্বার্থে ওয়াশিংটন ও তেহরান কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত। সেই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার ভবিষ্যৎ।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪