রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাগ্রহনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জুনের তৃতীয় সপ্তাহে কুয়ালালামপুর সফরের প্রস্তুতি চলছে। এর পরপরই ভারত কিংবা চীন সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে, যদিও ওই সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সফরে তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। এ ছাড়া আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈঠকেও বসবেন সরকারপ্রধান।
নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন বোঝার ক্ষেত্রে এই দুই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, প্রথম সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়; এর মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর কূটনৈতিক বার্তাও।
কূটনৈতিক মহল বলছে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকা সময়ে একটি মধ্যম শক্তির দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ শুরু করা বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক ও ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে কোনো নির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক বলয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়ার ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও কম থাকে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সেখানে বিভিন্ন খাতে কর্মরত আছেন। নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং সেবা খাতে তাঁদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সফরে শ্রম অভিবাসন, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং শ্রমিকদের কল্যাণসংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মালয়েশিয়া সফরের পর চীন সফর আয়োজনের পরিকল্পনা বাংলাদেশের বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। একদিকে মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, অন্যদিকে এশিয়ার বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণ—দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয় থাকার বার্তা দিতে চায় ঢাকা।
নতুন সরকারের ঘোষিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলোর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়গুলো রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে আসন্ন সফরগুলোকে কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম