রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন গ্রাহকরা। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান ও সাঁজোয়া যানও।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শুরু হয়। ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে কয়েকশ’ গ্রাহক অংশ নেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তারা নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল, ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আব্দুল হান্নান খন্দকার নামে এক গ্রাহক বলেন, ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সুনামের সঙ্গে গ্রাহকদের আমানত সংরক্ষণ করে আসছে এবং শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে সংকটের মুখে ঠেলে দেয়।
তার ভাষ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ইসলামি মূল্যবোধ ও স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী মানুষ আবারও ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে শুরু করেন। কিন্তু ব্যাংকটি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল আবারও প্রতিষ্ঠানটিকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ ব্যাংকটিকে নতুন করে সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে গ্রাহকদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে আমানতকারীরা কোনোভাবেই ব্যাংকটিকে ‘লুণ্ঠনকারীদের’ হাতে ছেড়ে দেবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরেক গ্রাহক আবুল খায়ের আজাদ বলেন, আগের দিনের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে পুলিশের হস্তক্ষেপ ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তার অভিযোগ, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে যে পরিবর্তন এসেছিল, তার ধারাবাহিকতায় এখন আবারও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ প্রত্যাহার এবং তার পদত্যাগের দাবিও জানান তিনি।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
আবুল খায়ের আজাদ বলেন, সম্প্রতি এমডির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া ওমর ফারুক খান গ্রাহকবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাই তাকে অবিলম্বে তার পদে পুনর্বহাল করতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক একটি শরীয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থার প্রতীক। সেই আস্থা ও মূল্যবোধ রক্ষায় দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ও কর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে সোমবার একই স্থানে নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং ধারাবাহিক কর্মসূচি শুরু হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম