| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ছেলে বুয়েট শিক্ষক ও যুগ্মসচিব, বৃদ্ধা মায়ের মরদেহে পচন ধরলেও খোঁজ নেয়নি কেউ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০২, ২০২৬ ইং | ১২:২০:২১:অপরাহ্ন  |  ৪৩২ বার পঠিত
ছেলে বুয়েট শিক্ষক ও যুগ্মসচিব, বৃদ্ধা মায়ের মরদেহে পচন ধরলেও খোঁজ নেয়নি কেউ

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধা নারীর পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর প্রায় সাত থেকে আট দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনাটি সামনে আসার পর বৃদ্ধদের একাকিত্ব, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং স্বজনদের খোঁজখবর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) গভীর রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায়। পরে বাসার একটি কক্ষ থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মৃত্যুর প্রায় সাত থেকে আট দিন আগে তিনি মারা গিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় কক্ষে পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরেছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা যায়।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বশির জানান, নুরজাহান বেগম ওই বাসায় তার মেয়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। তবে তারা পৃথক কক্ষে অবস্থান করতেন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে একজন নার্সকে ডাকা হয়। পরে নার্স কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ আরও জানায়, যে কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ও দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে থাকা অবস্থায়। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে পরিচর্যার ঘাটতির বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে অবহিত করা হয়।

ওসি হাসান বশির জানান, নুরজাহান বেগমের দুই ছেলে রয়েছেন। তাদের একজন সরকারের একজন যুগ্মসচিব এবং অন্যজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তারা আলাদা বাসায় থাকেন। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

তবে মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলতে রাজি নয় পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আধুনিক নগরজীবনে বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও খোঁজখবর কতটা নিশ্চিত হচ্ছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পরিবার সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪