রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলায় আদালতের বাইরে পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিদের বক্তব্য প্রদান ও তা গণমাধ্যমে প্রচারের বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আদালতের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারকের সামনে ছাড়া পুলিশ হেফাজতে থাকা কোনো আসামির বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
তিনি আদালতকে জানান, পুলিশি হেফাজতে থাকা কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জনমত এবং আইনি কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি এটি দেশের প্রচলিত আইন ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনারও পরিপন্থী।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জনমনে বিভ্রান্তি এড়াতে ভবিষ্যতে কোনো আসামি যাতে পুলিশ হেফাজতে থেকে জনসমক্ষে বক্তব্য দিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এদিন সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে মামলার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথমে বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে সাক্ষ্য দেন শিশুটির মা পারভীন আক্তার।
রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন। এরপর আদালত ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে ভিকটিমের বড় বোনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন।
এদিন মামলার আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা।
সকাল পৌনে ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।
পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে তাদের আদালতের এজলাসে উপস্থিত করা হয়।
এর আগে সোমবার আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিনে মামলার বাদীসহ মোট ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ মামলায় মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করেছে।
দেশজুড়ে আলোচিত এই মামলার বিচার কার্যক্রম এখন সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আদালতের সর্বশেষ নির্দেশনা বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্রুত সম্পন্ন করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম